October 22, 2026, 9:25 am
শিরোনামঃ
যশোরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অবৈধ পারাপারের সময় ১২ জন আটক সত্য-ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে আগে রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে : আইনমন্ত্রী জ্বালানি সহ‌যো‌গিতা নি‌য়ে বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার ম‌ধ্যে সম‌ঝোতা সই ৭ দিন বন্ধ থাকবে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম রাজশাহীতে সিমেন্টের বস্তা থেকে ১০৩ ককটেল উদ্ধার যশোরের শার্শায় ১৮টি স্বর্ণের বার মটরসাইকেলসহ ১ জন আটক ও ২ জন পলাতক মাগুরায় বাস কাউন্টার থেকে যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার ইরান থেকে কোনো ইউরেনিয়াম বের হবে না : ইরানের নিরাপত্তা সচিব
এইমাত্রপাওয়াঃ

সেনা প্রত্যাহার করলেও ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে বুধবার ইরাকের সর্বশেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ এই যুদ্ধে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এদিকে ইরাকে প্রভাবশালী ইরান ও তাদের মিত্ররা মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থানকে নিজেদের ‘বিজয়’ হিসেবে উদ্‌যাপন করছে।

তবে সেনা সরলেও ২০০৩ সালে আগ্রাসনের পর থেকেই দেশটির তেল বিক্রির অর্থ কার্যত নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ওয়াশিংটন। ফলে বাগদাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের প্রভাব বজায় রয়েছে, তেমনি ইরান সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতেও এর গভীর প্রভাব পড়ছে।

যেভাবে ইরাকের তেল রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ করে যুক্তরাষ্ট্র

মূলত নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ পরিচালনার ব্যবস্থা থেকেই এই নিয়ন্ত্রণের সূত্রপাত।

২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘কোয়ালিশন প্রভিশনাল অথরিটি’ (সিপিএ) গঠন করে ‘ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক’ (ডিএফআই)। নিউ ইয়র্ক ফেডে রক্ষিত এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল, তেল বিক্রির রাজস্ব জমা রাখা এবং তা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন ও উন্নয়নকাজে ব্যয় করা।

পাশাপাশি তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেনের শাসনামল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলা ও পাওনা দাবির হাত থেকে ইরাকের তেল রাজস্ব সুরক্ষিত রাখাও ছিল এ তহবিলের অন্যতম লক্ষ্য।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের জারি করা একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা চালু হয়, যা পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব নেওয়া প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়াদেই নবায়ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে ডিএফআই নিউ ইয়র্ক ফেডে ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি হিসাবে রূপান্তরিত হয়, যা আজও কার্যকর রয়েছে।

ইরাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই নিয়ন্ত্রণের প্রভাব

ইরাকের আয়ের প্রধান উৎস তেল; দেশটির জাতীয় বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে এ খাত থেকে। ফলে তেল রাজস্বের ওপর কর্তৃত্ব বজায় থাকায় ইরাকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ওয়াশিংটনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।

 

২০২০ সালে ইরাক সরকার মার্কিন সেনাদের দেশ ছাড়ার আহ্বান জানালে নিউ ইয়র্ক ফেডে থাকা দেশটির তহবিলে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। ফলে শেষ পর্যন্ত বাগদাদ সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় বলে জানা যায়।

 

আগ্রাসনের শুরুর দিকের তুলনায় ইরাক বর্তমানে নিজেদের আর্থিক বিষয়ে আগের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তা সত্ত্বেও বিদ্যমান ব্যবস্থাটি দেশটির অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকেই স্পষ্ট করে। তবে একই সময়ে বাগদাদও নিজেদের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা আরও সুসংহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এত বছরেও যে কারণে এই ব্যবস্থা টিকে আছে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরাকের কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বিদ্যমান ব্যবস্থাটি মূলত দেশটির আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সরকারি তহবিলের নিরাপত্তায় সহায়তা করে।

তাদের মতে, এটি তেল রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়ায়, বৈদেশিক বাণিজ্য ও আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় মার্কিন ডলার প্রাপ্তি সহজ করে এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের দাবি ও মামলাসহ বিভিন্ন আর্থিক ঝুঁকি থেকে রাজস্বকে সুরক্ষিত রাখে।

পাশাপাশি এ ব্যবস্থা দিনারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এবং ইরাকি অর্থনীতির ওপর আস্থা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব বাড়াতেও এটি কাজে দিচ্ছে।

এ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ইরাক সরকার স্থানীয় কিছু ইরানপন্থি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে পারছে, যারা ডলারে লেনদেনের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার দাবি জানিয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, ইরানের হয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগে গত বছর ইরাকের বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এই ব্যবস্থা ইরাকে যেসব প্রভাব ফেলেছে

ডলার সরবরাহের ওপর এমন কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে ইরাকে একটি সমান্তরাল অনানুষ্ঠানিক বাজার গড়ে উঠেছে। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত সরকারি বিনিময় হারের সঙ্গে খোলাবাজারের ডলারের দরে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক পথে লেনদেনের ঝুঁকি থাকার কারণেই মূলত ডলারের দামে এ অতিরিক্ত পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি জোরালো করায় বাগদাদ প্রায়ই ওয়াশিংটন ও তেহরানের টানাপোড়েনের মাঝে চাপের মুখে পড়ছে। কারণ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই ইরাককে নিজেদের অর্থনীতির অন্যতম পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে ইরান।

ইরাকের তেল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা

বর্তমানে ইরাকের তেল বিক্রির পুরো অর্থই নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হেফাজতে রয়েছে।

ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিআই) এতদিন স্থানীয় বাজারে ডলার সরবরাহের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ‘ডলার নিলাম’ বা ‘ফরেন কারেন্সি উইন্ডো’ ব্যবস্থা পরিচালনা করত। এ পদ্ধতিতে দেশটির বেসরকারি ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলো দিনার জমা দিয়ে প্রতিদিন নিলামের মাধ্যমে মার্কিন ডলার কিনতে পারত।

তবে ইরানসহ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা পক্ষগুলোর কাছে ডলার পাচারের অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ওয়াশিংটনের তীব্র চাপের মুখে ২০২৫ সালের শুরুতে ইরাক আনুষ্ঠানিকভাবে বিতর্কিত এই নিলাম ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়।

 

আজকের বাংলা তারিখ

  • ২২শে অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩
  • ১০ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮
October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page