October 4, 2026, 3:42 pm
শিরোনামঃ
ঢাবিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সারিতে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ থেকে বিনামূল্যে শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া : শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ : মাইকেল মিলার  নোয়াখালীতে বিভিন্ন মাদক মিশিয়ে বানানো ‘ঝাক্কাস’ সেবন করে তরুণের মৃত্যু ; ৪ জন হাসপাতালে সিরাজগঞ্জে পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা আকাশেই গতিপথ বদলাতে সক্ষম এআই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া সাধারণ মানুষকে সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল ইরান ঝিনাইদহের মহেশপুরে স্বর্ণের দোকানসহ দুই প্রতিষ্ঠানে চুরি
এইমাত্রপাওয়াঃ

সৌদি আরবে গৃহবধু ছাবিনার মৃত্যু দালালের শাস্তি দাবী

এম এ কবীর, ঝিনাইদহ : সংসারে সচ্ছলতা ও স্বামী সন্তানের ভবিষ্যতের চিন্তা করে গৃহকর্মীর চাকরী নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন ছাবিনা খাতুন (২৪) নামে এক গৃহবধু। কিন্তু তার কপালে সুখ সয়নি।

সৌদি আরবে যাওয়ার তিনদিনের মাথায় তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ছাবিনার মৃত্যু নিয়ে লোকমুখে নানা কথা শোনা গেলেও কি কারণে তিনি উচ্চ ভবন থেকে পড়ে মারা গেলেন তা নিয়ে রহস্য থেকেই যাচ্ছে।

ছাবিনা খাতুন ঝিনাইদহের সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বাথপুকরিয়া গ্রামের রুবেল হোসেনের স্ত্রী। দেশে তার দুই সন্তান রয়েছে। অনেকেই বলছেন পাশবিক নির্যাতরে শিকার হয়ে তিনি নিজের ইজ্জত বাঁচাতে ৮ তলার ভবন থেকে লাফ দেন।

সরজমিন তথ্য নিয়ে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর বাথপুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের পালিত ছেলে দালাল রফিকুলের মাধ্যমে সৌদির উদ্দেশ্যে পাড়ি জামান ছাবিনা খাতুন। ঢাকার মগবাজার এলাকার তিশা ইন্টারন্যাশনালের মালিক ফারুক হোসেন ছাবিনাকে সৌদি যেতে সহায়তা করেন।

২৪ সেপ্টেম্বর সৌদির মালিকের বাসায় গিয়ে ছাবিনা দালালের কথার সাথে কাজের কোন মিল পায় না। পরিবারের ধারণা মালিকের কু-প্রস্তাব বা পাশবিক নির্যাতনে রাজি না হওয়ায় ছাবিনাকে ৮ তলা ভবন থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

স্বামী রুবেল হোসেন জানান, দালাল রফিকুল আমাদের বলেছিলেন, মোটা অংকের বেতন তিন বেলা ঠিক মত খাবার ও আকামা সকল কিছুই সৌদির মালিক করে দিবেন। কিন্তু খাবার, মালিকের ব্যবহার ও বেতন কোন কিছুই ঠিকঠাক ছিল না বলে মৃত্যুর আগে ছাবিনা খাতুন তার পরিবারকে জানায়।

ছাবিনা তার স্বামীর কাছে জানায় সৌদিতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে দালাল রফিকুল। ফলে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সাবিনা খাতুন বহুতল ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে দালাল রফিকুল। গ্রামবাসির অভিযোগ, দালাল রফিকুল এলাকার সহজ সরল কম বয়সী মেয়েদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে নির্যাতন ও অর্থ আদায় করেন। কিছু দিন আগে একই এলাকার হাসান মিয়ার মেয়ে হাসি বেগম দালাল রফিকুলের খপ্পরে পড়ে সৌদি আরব শারিরীক নির্যাতন ও সর্বস্ব হারিয়ে এখন সন্তান নিয়ে দিশেহারা। হাসি বেগম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, দালাল রফিকুল আমাকে ভাল কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরব নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে মালিকের অনৈতিক প্রস্তাব ও খাবারের কষ্টসহ বিভিন্ন অমানসিক কষ্ট দিতে থাকেন। পরে এলাকায় জানা জানি হলে সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের মধ্যস্থতায় আমাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন দালাল রফিকুল। হাসি বেগমের ভাষ্যমতে, তাকে দেশে আনতে ৫০ হাজার টাকা নেয় দালাল রফিকুল। হাসি বেগম আরো জানান, সৌদি আরবের ওই এলাকায় আরো ৫/৬ জন মেয়ে আছেন যারা দালাল রফিকুলের মাধ্যম গিয়ে এখনো নিয়মিত নির্যাতিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বাথপুকুরিয়া গ্রামের আকবর হোসেন জানান,বিদেশে নারী কর্মী পাঠিয়ে রফিকুলের নির্যাতনের বিষয় নতুন না। এর আগেও বিভিন্ন মেয়েদের নির্যাতনের বিষয়ে শালিশ বিচার করেছি। কিন্তু দালাল রফিকুল তার অভ্যাস পরিবর্তন হয়নি। এ বিষয়ে দালাল রফিকুল ইসলাম জানান, ছাবিনা সৌদি আরবে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পানির পাইপ দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে নিচে পড়ে মারা যান। তবে তার উপর কোন পাশবিক নির্যাতনের তথ্য ময়না তদন্তের রিপোর্টে নেই বলে তিনি দাবী করেন। তিনি দাবী করে ছাবিনা তার আত্মীয়। সৌদি আরব যেতে তার কাছ থেকে তেমন কোন টাকা পয়সা গ্রহন করা হয়নি। মাত্র দেড় লাখ টাকায় ছাবিনাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, সৌদিতে ছাবিনা নামে কোন নারীর মৃত্যুর খবর তার কাছে নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

 

 



Our Like Page