অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল চলাচল নিশ্চিত করতে ‘খুবই দায়সারা কাজ’ করছে এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল চলাচল নিশ্চিত করতে খুবই দায়সারা কাজ করছে—অনেকে এটাকে অসম্মানজনক বলবেন।’
‘এটি আমাদের চুক্তি নয়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর মঙ্গলবার পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যবর্তী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালীটি পুনরায় চালুর কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
তবে সামুদ্রিক নজরদারি তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করেছে।
এরই মধ্যে ইরান প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজের ওপর টোল আরোপের প্রস্তাব দিলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে—যদিও ট্রাম্প নিজেও অতীতে তেহরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আরোপের ধারণা দিয়েছিলেন।
এর আগে আরেক পোস্টে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘খবর পাওয়া যাচ্ছে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া ট্যাংকার থেকে ফি নিচ্ছে—তারা যেন তা না করে, আর যদি করে থাকে, তাহলে এখনই বন্ধ করতে হবে।’
একটি সমালোচনামূলক গণমাধ্যম সম্পাদকীয়ের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ‘খুব দ্রুতই দেখবেন, ইরানের সহায়তা থাক বা না থাক—তেল প্রবাহ শুরু হবে।’
এর আগে এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে ‘খুবই আশাবাদী’ বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, ইসরাইল লেবাননে হামলা ‘কমিয়ে আনছে’।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে ‘অনেক বেশি যৌক্তিক’ হলেও, ‘চুক্তি না হলে পরিস্থিতি খুবই কঠিন হবে।’
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স শনিবার পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। একই সফরে যাচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
হোয়াইট হাউসের প্রধান উপপ্রেস সচিব আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট আশা করছেন এমন একটি চুক্তি সম্ভব, যা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ খুলে দিতে পারে।
এদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে লেবাননে হামলা ‘নিম্নমাত্রায়’ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরাইল ও লেবানন আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে আলোচনায় বসবে।
উল্লেখ্য, মার্চের শুরুতে হিজবুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়ানোর পর থেকে লেবাননে ইসরাইলের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলায় বুধবার শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।