অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : তেলের দাম বাড়ানোর পর বিষয়টি জনগণকে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা’র দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সময়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হলে শুধু প্রতিবাদ নয়, হাসিনার পদত্যাগ চাইতাম। এখন সেটা চাওয়া উচিত হবে না। কারণ এই সরকার একটা নির্বাচিত সরকার, এটা আমাদের সরকার।’
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি বিষয়ক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি। রোববার রাতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ায় সরকার। সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়।
তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার অজনপ্রিয় হচ্ছে কী না–এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এটুকু কাইন্ডনেস জনগণের কাছে চাইব। জনগণের কষ্ট হচ্ছে, কষ্ট হবে। আমরা আগেও যখন অয়েল নিয়ে কথা বলছি—এটা কোথায় হচ্ছে না?’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সময়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হলে শুধু প্রতিবাদ নয়, তার পদত্যাগ চাইতাম। এখন সেটা চাওয়া উচিত হবে না। হাসিনার সময়ে যখনই এ ধরনের সংকট হতো পেঁয়াজের দাম ৩০০ টাকা হতো, দাম এত বাড়তো আমরা বলতাম “তুমি যাও”। কারণ হচ্ছে ওই সরকারকে আমরা ওন করি নাই। ওটা একটা লেজিটিমেট সরকার ছিল না। আমরা পদত্যাগই চাইতাম। কোনো যুক্তিই আমরা শুনতে প্রস্তুত ছিলাম না। এই সরকার একটা নির্বাচিত সরকার, এটা আমাদের সরকার।’
সমালোচনাকে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি একেবারেই একমত যে এটার সমালোচনা হবে। এটাকে আরেকটু ভালোভাবে করা যায় কি-না, আরেকটু কম করা যায় কি-না। এসব আলোচনা প্রত্যেকের পারসপেক্টিভ থেকে আসবে।’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আগেও যখন তেল নিয়ে কথা বলেছি, এটি শুধু আমাদের দেশে হচ্ছে না। আমেরিকাতেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার চেষ্টা করেছেন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে। কারণ মিডটার্ম নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে। আমাদের দেশে মিডটার্ম নির্বাচন নেই, তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। সরকার জেনে-বুঝে জনগণকে অসন্তুষ্ট করার কোনো কারণ নেই। কারণ এই সরকার আগের সরকারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্যাকেজ করে অর্থ নিয়ে কাউকে জিতিয়ে দেওয়ার পথে যাবে না। একটি নির্বাচন হবে, তাই এখানে ঝুঁকি আছে। সেই ঝুঁকি নেই—এমনটা বলছি না।’
জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত বা চাপ নেই উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আইএমএফের সাধারণ নীতি হলো, কোনো সরকার যেন অতিরিক্ত ভর্তুকি না দেয়। তবে আমরা সব ক্ষেত্রে তাদের সব নিয়ম মেনে চলছি—এমন নয়। আমাদের বিভিন্ন কার্ড প্রকল্পের ক্ষেত্রেও আইএমএফের পুরোপুরি সম্মতি নেই। কিন্তু জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই আমরা এসব উদ্যোগ নিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই। বিরোধীদল নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করতে পারে। তবে ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে আগুন দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।