May 7, 2026, 8:48 am
শিরোনামঃ
পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোরবানির গরুর হাটে এবার চাঁদাবাজি চলবে না : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ জনের মৃত্যু কুমিল্লায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা মেহেরপুরে স্ত্রীর সামনেই স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা কুড়িগ্রামে নিখোঁজের একদিন পর নারী মিললো তেঁতুল গাছের ডালে চীনে স্কুলের স্পোর্টস-ডে এর আয়োজনে নাচ ভুলে কুংফু শুরু করলো রোবট কলকাতায় বুলডোজার দিয়ে মাংসের দোকান ভাঙল বিজেপির কর্মীরা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ অবৈধ : চীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিএজির অডিট রিপোর্ট পেশ
এইমাত্রপাওয়াঃ

৩৮ দিন সমুদ্রে ভেসেছিলেন তারা ; বেঁচেছিলেন কচ্ছপের রক্ত খেয়ে

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সমুদ্র মানেই নানা রোমাঞ্চ। নৌকা হোক কিংবা অন্য কোনো জলযান সমুদ্র সফরের মজাই আলাদা। তবে এই আনন্দে রয়েছে নানা ঝুঁকিও। ওত পেতে থাকে নানা বিপদ। ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে সমুদ্রে পাড়ি দিয়ে এমনই এক বিপদের মুখে পড়েছিল একটি পরিবার।

ঘটনাটি ১৯৭১ সালের। সেই বছর প্রশান্ত মহাসাগরে নৌকায় চড়ে সাগর ভ্রমণে বের হয়েছিল রবার্টসন পরিবার। যাত্রা শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডের ফালমাউথ থেকে।

তাদের এই সমুদ্র সফরের পরিণতি যে ভয়ংকর হবে তা বোধ হয় কেউ ভাবেননি। মাঝ সমুদ্রে একটি তিমির আক্রমণে রবার্টসন পরিবারের নৌকা ডুবে যায়। কিন্তু তারা বেঁচে গিয়েছিলেন। টানা ৩৮ দিন ধরে একটি ছোট ডিঙিতে চড়ে সমুদ্রে ভেসে দিন কাটিয়েছিলেন তারা।

১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে ফালমাউথ থেকে যাত্রা শুরু করে রবার্টসন পরিবার। যে বোটে তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন তার নাম লুসেট।

ওই নৌকায় মোট ছয় জন ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচ জনই রবার্টসন পরিবারের সদস্য। সমুদ্রের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন তারা। হঠাৎই একটি তিমির আক্রমণের মুখে পড়ে তাদের নৌকা। যার ফলে ডুবে যায় সেটি। তারপর একটি ছোট ডিঙিতে চড়ে ভেসে ছিলেন তারা।

সেই সময় রবার্টসন পরিবারের সদস্য ডগলাসের বয়স ছিল ১৮। পরে ডগলাসই সেই অভিজ্ঞতার কথা একটি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। তার কথায়, আমরা কৃষক ছিলাম। সমুদ্রে যাত্রার অভিজ্ঞতা আমাদের কারোরই ছিল না।

মাঝ সমুদ্র। চারপাশে কোথাও কেউ নেই। সাহায্যের জন্য তাই সেই সময় কাউকেই পায়নি রবার্টসন পরিবার। ফলে ওই ডুবন্ত নৌকায় কোনোরকমে ভেসে দিন কাটিয়েছেন তারা।

ডগলাস জানান, ওই অবস্থায় কী খাব তা নিয়ে খুব মাথাব্যথা ছিল। তবে সবাই মিলে ঠিক করেছিলেন যে, মৃত্যুর কাছে হার মানা চলবে না। যে করেই হোক এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে হবে।

সেই অবস্থায় বেঁচে থাকার জন্য সমুদ্রের প্রাণীদের উপরই ভরসা করতে হয়েছিল তাদের। সমুদ্রে মাছ, কচ্ছপ যা কিছু পেতেন, তা দিয়েই পেট চালাতেন। সবই কাঁচা অবস্থাতে খেতেন তারা। তবে নিজেরা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, পেটের টানে একে অপরকে খুন করবেন না।

ডগলাস জানান, সেই সময় বেঁচে থাকার জন্য কচ্ছপের রক্ত পান করতেন তারা। এসব খেয়েই তারা টানা ৩৮ দিন ধরে সমুদ্রে নিজের প্রাণশক্তি ধরে রেখেছিলেন।

এই ৩৮ দিনে অনেক ঝড়ঝাপটা সামলাতে হয়েছে রবার্টসন পরিবারকে। ঝড়বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যেমন টিকে থাকতে হয়েছে, তেমনই দীর্ঘসময় কিছু না খেয়েই তাদের দিন কাটাতে হয়েছে।

মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্ত লড়াই করতে করতে এভাবে ৩৮ দিন সমুদ্রে দিন কাটান রবার্টসন পরিবার। ৩৮ দিন পর রবার্টসন পরিবারকে মাঝ সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে জাপানের একটি ট্রলার। তারপর সেই ট্রলারে করে রবার্টসন পরিবারের সদস্যদের পানামা ক্যানালে নেওয়া হয়।

ডগলাসদের এই বেঁচে থাকার লড়াই অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। তার কথায়,  জীবনটা রোমাঞ্চকর। কখনোই হার মানবেন না। যে সমস্যাই আসুক না কেন, মোকাবিলা করুন…।

আজকের বাংলা তারিখ

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১


Our Like Page