January 25, 2026, 8:35 pm
শিরোনামঃ
দিল্লীতে শেখ হাসিনার অডিও ভাষণকে কীভাবে দেখছে বাংলাদেশ ? জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকার ২৫ প্রকল্প অনুমোদন বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সঙ্গে আমাদের গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে : তারেক রহমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি ভোট বাক্সে হাত দিতে এলে প্রতিহত করা হবে : জামায়াতের আমীর নির্বাচনী প্রচারণায় জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সভা-সমাবেশ করা যাবে না : ইসি রংপুরে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত দুদকের মামলায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮কর্মকর্তা-কর্মচারী কারাগারে মাদারীপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার কানাডার পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
এইমাত্রপাওয়াঃ

আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল চুক্তি নিয়ে হাইকোর্টের রায়

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)’র পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেয়ার চুক্তি প্রক্রিয়ায়া চ্যালেঞ্জের রিটের রায় আগামী ৪ ডিসেম্বর।

এই রিটে জারি করা রুল শুনানি শেষে আজ (২৫ নভেম্বর) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের এই দিন ধার্য করেন।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আইনজীবী কায়সার কামাল। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক।

‘নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’ শিরোনামে গত ২৬ এপ্রিল একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে চলতি বছর জুলাইয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন হাইকোর্টে এ রিট করেন। সে রিটে চুক্তি প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানির পর গত ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী আহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো রকম উন্মুক্ত দরপত্র ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া ছাড়া বিগত সরকার ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড নামের একটি কোম্পনির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সাক্ষর করে। আশা করা হয়েছিল, নতুন সরকার আসার পর এ সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিবে। কিন্তু দেখা গেছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কার্যক্রম অব্যাহত রেখে প্রক্রিয়াটিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) দিয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। সরকারের ইচ্ছা হচ্ছে কোনো প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অর্থাৎ উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই এনসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া।’

রিটকারি পক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘পিপিপি আইনে দুটি শর্ত আছে। একটি হচ্ছে বিদ্যমান অবকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি পরিচালনাকারী নিয়োগ করা যাবে না এবং দুই হাজার কোটি টাকার নিচে কোনো প্রকল্প নেওয়া যাবে না। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত বা বিদ্যমান অবকাঠামো পরিচালনার দায়িত্ব কোনো বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া যাবে না। এনসিটি খুবই সুপতিষ্ঠিত একটি টার্মিনাল। বছরে পাঁচশ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আসে এই টার্মিনাল থেকে। সুতরাং বিদেশি কোম্পানি দিয়ে এই টার্মিনালটি পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিচালনার ক্ষেত্রেই কেবল পিপির অধীনে বিদেশি কোম্পানির সাথে এই ধরনের চুক্তি হতে পারে।’

রিটকারি পক্ষের আইনজীবী আরও বরেন, ‘এনটিসির এই টার্মিনালের সাথে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। দেশের ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) আইন, ২০১৫ অনুসারে কোনো বিদেশি কোম্পানিকে প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে কমপক্ষে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব যে কোম্পানিকে দেওয়া হচ্ছে, সেই কোম্পানিটি মাত্র ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এক্ষেত্রেও পিপিপি আইনের ব্যত্যয় ঘটছে। তাছাড়া কোনো পিপিপি প্রকল্প যদি জি টু জি (দুটি দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তি বা সমঝোতা) নীতিমালা অনুসারে বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে তা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে করতে হবে। এনটিসি পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। ফলে এ ধরনের চুক্তি প্রক্রিয়া চলতে পারে না।’

অন্যদিকে শুনানির পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এনটিসি নিয়ে একটা কোম্পানির সাথে প্রাথমিক কথাবার্তা চলছে। সেটি নিয়ে জনস্বার্থের একটি মামলা করে জাতির সামনে বিভ্রান্তিমূলক একটি তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে যে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা কোর্টকে বলেছি, কয়েকটা কারণে রিট আবেদনটি খারিজ হতে পারে। ইতিপূর্বে এই কোর্টই অন্য একটি টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া নিয়ে রিট আবেদন খারিজ করেছিলেন। ফলে এই রিটের ক্ষেত্রে আদালত দ্বৈত নীতি নিতে পারেন না। দ্বিতীয়ত কারণটি হচ্ছে, রিটে কজ অব অ্যাকশন (কার্যকারিতা) তখনই তৈরি হয়, যখন কজ অব অ্যাকশন তৈরি হওয়ার মত বিষয়টি ফাইনাল (চূড়ান্ত) হয়। এনটিসি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি, প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অনেক রায় আছে, প্রিম্যাচিউর স্টেজে কোনো জুডিশিয়াল রিভিউ এন্টারটেইন করার সুযোগ নেই। তৃতীয়ত বলেছি, দেশীয় কোম্পানিকে না দিয়ে কেন বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া হচ্ছে? আমরা বলেছি, আইন আমাকে সেই কর্তৃত্ব দিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন আইনের বৃত্তের মধ্যে আছি। যা করছি, সংবিধান-আইনের মধ্যে থেকে করছি।’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘রিট আবেদনকারী পক্ষের দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে পিপিপি আইনের ৭ ধারার অধীনে প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদ থাকতে হবে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীপরিষদ নাই, সেই কারণে এনটিসির ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না। আমরা বলেছি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদ যে কাজ করতে পারেন, সংবিধান অনুসারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টারা তা করতে পারেন।’

এনসিটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল সাইফ পাওয়ারটেক। দেশীয় এই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদও ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। গত ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

আজকের বাংলা তারিখ

January ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Dec    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page