ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বিজয়বার্ষিকীতে ইরানজুড়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণ
অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বিজয়বার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা ও সমাবেশে সমাজের সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন।
আজ (বুধবার) সকাল থেকেই তেহরানসহ দেশের এক হাজারের বেশি শহর ও নগরের নির্ধারিত রুটে জনসমাগম শুরু হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে অংশগ্রহণকারীদের জড়ো হওয়ার কথা ছিল। এরপর তারা নির্ধারিত পথে কেন্দ্রীয় সমাবেশস্থলের দিকে অগ্রসর হয়, যার মধ্যে তেহরানের আজাদি স্কয়ার অন্যতম। সেখানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
আয়োজকদের তথ্যমতে, সারা দেশে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি স্থানে এই শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব কর্মসূচি কাভার করতে প্রায় ৭ হাজার ২০০ দেশীয় সাংবাদিক এবং প্রায় ২০০ জন বিদেশি সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে জনসম্পৃক্ততা ও সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা নথিভুক্ত করা যায়।
মঙ্গলবার রাতে বিপ্লব বিজয়ের স্মরণে দেশজুড়ে রাত ৯টায় মানুষ ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দেন। বহু শহরে, বিশেষ করে তেহরানে, ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাবেশ গড়ে ওঠে এবং মানুষ বিভিন্ন চত্বরে জড়ো হয়।

বিপ্লববার্ষিকীর শোভাযাত্রায় সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন
সমাবেশের আগে কয়েক দিন ধরে সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জনগণকে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহণকে জাতীয় ঐক্য ও বহিরাগত চাপের মুখে দেশের দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং জাতীয় জীবনে সংহতি ও জনসম্পৃক্ততার প্রকাশ ঘটানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে বিদেশি মদদপুষ্ট সশস্ত্র দাঙ্গাকারী ও সন্ত্রাসীরা সহিংসতায় রূপ দেয়। এতে দোকানপাট, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনসেবামূলক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হন, যাদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও ছিলেন।

বিপ্লববার্ষিকীর শোভাযাত্রায় অংশ নেন ৯৯ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ জান্নাতি
ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এসব সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি জড়িত ছিল এবং দাঙ্গাকারীদের অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও প্রচারমাধ্যম সহায়তা দিয়েছে। ইরানের শহীদ ও যুদ্ধাহত বিষয়ক ফাউন্ডেশনের গত মাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এসব সহিংসতায় মোট ৩,১১৭ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২,৪২৭ জন নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
সোমবার ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ি ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকীতে ঐক্য, দৃঢ়তা ও সংকল্পের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই ঐক্যই দেশের শত্রুদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দেবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছবি হাতে দুই নারী
এই সমাবেশগুলো ১৯৭৯ সালের শীতকালে ইরানের জনগণের হাতে পাহলভি স্বৈরতন্ত্রের পতনের স্মরণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সে সময় এই শাসনব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনে টিকে ছিল।
১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাসন থেকে দেশে ফেরেন ইমাম খোমেনী। জানুয়ারির মাঝামাঝি শাহের দেশত্যাগের পর জনগণের পক্ষ থেকে তাকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পাহলভি শাসনের পতন চূড়ান্ত রূপ নেয়, যখন সেনাবাহিনী শাহের প্রতি আনুগত্য প্রত্যাহার করে ইসলামি বিপ্লবের পক্ষে অবস্থান নেয়।