মাগুরা সংবাদদাতা : মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়নের শ্রীফলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় তলায় নামাজ পড়া কক্ষে সহকারী শিক্ষক ও মহিলা আপত্তিকর নগ্ন অবস্থায় জনসাধারণের কাছে ধরা পড়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার ২৭ জুন শ্রীফলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১২ টার সময় ছাত্র জনতা ও সাধারণ গ্রাম বাসীর লোকজনের কাছে সাক্ষাৎ করে জানা যায় গত শুক্রবার ২৬ জুন বেলা ১১ টার সময় স্কুলের ২য় তলার ওয়াশরুম সংলগ্ন ছোট রুম থেকে আপত্তিকর নগ্ন অবস্থায় জনসাধারণের কাছে ধরা পড়ে একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মঞ্জুর রহমান ও মাগুরা শহরের এক মহিলা।

শ্রীফলতলা গ্রামের ছাত্র তানভীর রহমান শুভ, জাহিদ হোসেন, সিয়াম হোসেন, ফুরকান, মেহেদী হাসান, হুসাইন আহমেদ জানায়, মালঞ্চী গ্রামের মঞ্জুর স্যার কয়েকদিন অন্তর বাইরে থেকে মেয়ে নিয়ে এসে অনৈতিক কাজ করে এবং আমরা হাতেনাতে ধরি গাছ বেয়ে ছাদে ২য় তলায় ছোট ঘরে মহিলা সহ দুজনেই নগ্ন অবস্থায়। এর আগেও মহিলা নিয়ে এসে ছিলো তখন আমরা ভেবে ছিলাম মনে হয় স্যারের বোন বা পরিচিত আত্মীয় হবে কিন্তু এখন দেখলাম অনৈতিক আপত্তিকর যৌন লালসার মত্ত অপরাধ মূলক কাজ। এরপর আমরা অনুমান ১১. ২০ টার সময় জনতারা হাতেনাতে ধরে স্থানীয় মাতব্বার ও গ্রামের মুরব্বিদের হাতে তুলে ধরা হয় আর তারা বিচার করে মনে হয় তাদের বিয়ে দিয়ে দিছে। আর ঐ মঞ্জুর স্যারের স্কুলের তালার চাবি থাকতো আর আমরা অনেক দিন ধরে তাকে সন্দেহ করি এবং গতকাল টার্গেট করে ধরে ফেলি।
শ্রীফলতলা গ্রামের আব্দুর রশিদ জানান, মঞ্জু স্যার এক মহিলা নিয়ে এসে স্কুলের দোতলায় উঠেছে এরপর ছেলেরা ধরে উলঙ্গ অবস্থায় হাতেনাতে ধরে জনতার কাছে দেওয়া হয়। বাঁশ দিয়ে মারধরের কথা শোনা হলে তিনি জানান একটু হালকা মারধর করা হয়েছে সামান্য আর মহিলা কে বোরকা পরায়ে নিচে নামানো হলো আর মঞ্জুর মাস্টার নিচের তলায় বারান্দায় এসে শার্টের বোতাম লাগায় হাত দিয়ে এবং আল্লাহ কিরে খোদার কসম কাটতে থাকে। এরপর শ্রীফলতলা গ্রামের হাফিজ, হাবিবুর ও লক্ষীপুর শ্রীফলতলার বিল্লাল এসে ওদের দুজনের তুলে নিয়ে গেলো এরপর দারোগা এসে তাদের পায়নি।
১২১ নং শ্রীফলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার্ট বোর্ড থেকে জানা যায়, মোঃ মঞ্জুর রহমান সহকারী শিক্ষক বিএমএস, বিএড ও ডিপিএড তার জন্ম তারিখ ০৫/০৪/১৯৮২, প্রথম যোগদান ২৮/০৬/২০১৩ অত্র বিদ্যালয়ে ১৮/০২/২০২৫ অবসর গ্রহণ ০৫/০৪/২০৪১ সালে করবেন।
১২১ নং শ্রীফলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ময়েন উদ্দিন জানান, গত বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে ০২ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়েছে রবিবার ২৮ জুন পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ মঞ্জুর রহমান। সে আমাকে বললো হেডস্যার আমি ঢাকায় যাবো চিকিৎসা নিতে ডাক্তার দেখাতে এ কথা বলার পর আগামী ২৭ জুন শনিবার ও ২৮ জুন রবিবার দুই দিন ছুটি দেয়। প্রধান শিক্ষক ময়েন উদ্দিন আরও জানান আমি হতবাক হয়ে গেছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখে আমার স্কুল প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক মোঃ মঞ্জুর রহমান স্যার ঢাকায় না গিয়ে এক বোরকা পরিহিত মহিলা সহ স্কুলে জনতার হাতে আটক হয়েছে। এসময় প্রধান শিক্ষক মাগুরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম ও শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মোবাইলে জানান দুজন সাংবাদিক এসেছে তখন অফিসার বলেন ঘটনা যা হয়েছে সব সত্য কথা বলে দেন।
এদিকে শ্রীফলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মহিলা সহকারী শিক্ষিকা ঝর্ণা, ইয়াসমিন খাতুন, রওশন আরা খাতুন তারা নাকি সহকারী শিক্ষক মোঃ মঞ্জুর রহমান এখানে থাকলে তারা এই স্কুলে আর আসবে না বা চাকরি করবে না। তবে এবিষয়ে তারা কেউ মুখ খোলেনি।
ছেলেদের করা ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলের ভিতর ধরা পড়ে মঞ্জুর রহমান মাস্টার বলছে খোদার কসম তুগার কাছে মাফ চাচ্ছি। এরপর ঘাড় ধরে ছাত্র জনতা ২য় তলা থেকে নিচে নামায় নিয়ে আসে। আর মহিলা বলে উনি আমাকে বিয়ে করেছে এমন কথা শোনা যায় তবে কথা স্পষ্ট নয়।

ঘটনার বিষয়ে সরজমিনে মালঞ্চি গ্রামের বাড়িতে মঞ্জুর রহমান মাস্টারের বাড়িতে গেলে বাড়ির গেটে তালা বদ্ধ দেখা যায়। তার প্রতিবেশী একজন পুরুষ ও বেশ কয়েকজন মহিলা বলে এর আগেও মঞ্জুর হিজলে নিয়ে সমস্যা এবং আরও তিনটা-চারটা অকামের রিপোর্ট তার বিরুদ্ধে আছে। তার দুই মেয়ে বড় মেয়ে এইচএসসি পড়ালেখা করে মাগুরা শহরের কলেজে আর ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী। মঞ্জুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা তার সবগুলো মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।