ফারুক আহমেদ, মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের পাঠখালী সম্মিলনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবন ও বিক্রিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে শোকজ ও সাময়িক বরখাস্ত করেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি কথিত মাদকসেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মাসুম বিল্লাহকে এলাকাবাসী আটক করে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু নাসের মজনু বলেন, নৈশপ্রহরী মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছে। ইতোমধ্যে তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গ্রহণ করবে।
অভিযোগের বিষয়ে মাসুম বিল্লাহর বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা তার বাড়িতে গেলে তার ভাই জানান, তিনি বাড়িতে নেই। এছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ‘মিম’ নামের এক তরুণীকে বেঞ্চে বসা অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওতে কক্ষের ভেতরে মাসুম বিল্লাহকেও দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের সময় এবং সেখানে মাদক সেবনের বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসী অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পাঠখালী সম্মিলনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। নৈশপ্রহরী মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।