স্টাফ রিপোর্টার : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের পদ্মপুকুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত জটিলতা, আর.এস. রেকর্ড সংশোধন এবং পরবর্তীতে জমি হস্তান্তর ও নামজারিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। “জোরপূর্বক জমি দখল ও মিথ্যা সংবাদের” প্রতিবাদে পদ্মপুকুর গ্রামবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হলেও নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে—আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট জমির আর.এস. রেকর্ড সংশোধন, দলিল সম্পাদন এবং নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও আদালতের রায় : মামলার নথি থেকে জানা যায়, পদ্মপুকুর মৌজার (জে.এল. নং ২৮) সি.এস. ৯৯ ও এস.এ. ৪৫ খতিয়ানভুক্ত জমি সি.এস. প্রজা ফকির চাঁদ বিশ্বাস, তিনকড়ি বিশ্বাস, মিয়াজান বিশ্বাস গংদের পর উত্তরাধিকারসূত্রে জুড়ন বিশ্বাস প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে আর.এস. জরিপের সময় ভুলবশতঃ উক্ত জমি বাদীপক্ষের পরিবর্তে আর.এস. ১০৪, ১১, ৩৭, ৭৩ ও ২৬৪ নং খতিয়ানে অন্য পক্ষদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।
উক্ত ভুলের প্রতিকার চেয়ে জুড়ন বিশ্বাসের পুত্র মো: আ: আজিজ, আ: সাত্তার বিশ্বাস, আ: রাজ্জাক, রায়হান উদ্দিন বিশ্বাস ও আশরাফুল ইসলাম ঝিনাইদহের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা (মামলা নং ২১১০/২০১৬ ও ১৬৬/২০১৬) দায়ের করেন। ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা জজ মো: তাজুল ইসলাম শুনানি শেষে বিবাদীপক্ষ জবাব না দেওয়ায় মামলাটি একতরফা সূত্রে ডিক্রি (Ex-parte Decree) করেন এবং ভুল আর.এস. রেকর্ড বাতিল করে বাদীপক্ষের নামে সংশোধন ও রেকর্ডভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
হাইকোর্ট ও ভূমি অফিসের পদক্ষেপ : ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মহেশপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দপ্তরে ৪৩৯ ও ৪৪০ নং নামজারি খতিয়ান খোলার আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ (রিট পিটিশন নং ৫৯৫৪/২০২৫) পর্যন্ত গড়ালে বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ ও বিচারপতি মো: মনজুর আলমের বেঞ্চ আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাতিল করে বিষয়টি যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
দলিল হস্তান্তর ও নতুন নামজারি : আদালতের রায়ের পর রায়হান উদ্দিন বিশ্বাস তার প্রাপ্ত অংশ থেকে গত ২৩/০৭/২০২৩ তারিখে মহেশপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৫৮৭৬/২৬ নং হেবার ঘোষণাপত্র দলিলের মাধ্যমে ২.০৪ একর জমি পুত্র মো: সোহেল রানাকে হস্তান্তরিত করেন। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় হতে নিয়ম অনুযায়ী সরকারি ফি (DCR) প্রদানপূর্বক সোহেল রানার নামে ২০২৬-১০০০১৩ নং নতুন নামজারি খতিয়ান মঞ্জুর করা হয় এবং ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায় করা হয়।
গ্রামবাসীর মানববন্ধন ও অসন্তোষ : আইনি প্রক্রিয়ায় জমি হস্তান্তর ও নামজারি সম্পন্ন হলেও স্থানীয় একদল ব্যাক্তি গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) “জোরপূর্বক জমি দখল ও মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদে” এক মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে মূল জমির রেকর্ড, আইনি সত্যতা এবং আদালতের রায় ও ডিক্রি উপস্থাপন করা হলে মূল রহস্য উম্মোচিত হয়।