ইয়ানূর রহমান : যশোরে এক কেজি হেরোইন ও অস্ত্রসহ আটক আলমগীর হোসেন ওরফে মহি পাগলা ওরফে মহির বাবুকে আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
একই সঙ্গে তাকে আরো ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালতের বিচারক শাহিনুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর হোসেন মহি পাগলা যশোরের শার্শা উপজেলার টেংরালী গ্রামের মৃত কুদ্দুস সর্দারের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় মহি পাগলা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর-বেনাপোল সড়কের কাজীরবেড় মোড়ের যাত্রীছাউনির সামনে অভিযান চালায় শার্শা থানা পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমামুল ইসলাম। অভিযানকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আলমগীর হোসেন পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তাঁকে ধাওয়া করে আটক করে। পরে তাঁর শরীর ও হাতে থাকা প্লাস্টিকের ব্যাগ তল্লাশি করে কোমরে গোঁজা অবস্থায় এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল এবং ব্যাগে রাখা ১০টি প্যাকেট থেকে মোট এক কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ১০০ গ্রাম করে হেরোইন ছিল।
এ ঘটনায় এএসআই মো. ইমামুল ইসলাম বাদী হয়ে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে শার্শা থানায় অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাটি তদন্ত করেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুজাত আলী। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩১ মে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মাদক মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।