অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বগুড়ার শিবগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্য নারগিস আরা বেগমকে হত্যার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করছে পুলিশ। তারা দুজনই নিহতের ছেলের বন্ধু। পুলিশের দাবি, ছেলের সঙ্গে বিরোধের জেরে মাকে হত্যা করেছেন ওই দুই যুবক।
গ্রেফতাররা হল- উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের মধ্যপাড়ার মুন্না মিয়া (২২) ও পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা খালেদ হাসান (২২)।
সোমবার (৬ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুর রশিদ।
তিনি জানান, রোববার বিকেলে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে সাবেক নারী ইউপি সদস্য নারগিস আরা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তদন্তে নামে। নারগিস আরা রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রায়নগর মধ্যপাড়ার নিজবাড়িতে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই মুন্না ওই বাড়িতে প্রবেশ করে নারগিসকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলায়, পিঠে ও মাথায় কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত এসপি জানান, ওই সময় বাড়ির সামনে পাহারায় ছিলেন খালেদ। তদন্তে নেমে স্থানীয়দের মাধ্যমে খালেদ ও মুন্নার ওই বাড়ির সামনে ঘোরাফেরার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। এই সূত্র ধরে রোববার রাত ১টার দিকে খালেদকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। তার তথ্যে পরে মুন্নাকে রাত প্রায় ৩টার দিকে বগুড়া সদরের মাটিডালী এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। আর এ কাজে খালেদ তাকে সাহায্য করেন। তাদের তথ্যে নিহতের বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ের ঝোঁপ থেকে রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার হয়।
আব্দুর রশিদ বলেন, গ্রেফতার আসামিরা নিহত নারগিসের ছেলে আজিজুলের বন্ধু। তারা একসঙ্গে মাদকসেবন করে বেড়াতেন। নারগিসের ছেলে আজিজুল বর্তমানে বগুড়া শহরের একটি নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছেন। আমাদের প্রাথমিক ধারণা ছেলে আজিজুলের সঙ্গে মাদক বা অন্য কোনো দ্বন্দ্ব নিয়ে নারগিসকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে মামলা করবেন।
Leave a Reply