September 18, 2026, 9:11 pm
শিরোনামঃ
সার্ক পুনরুজ্জীবনে ভুটানের সহযোগিতা চাইলেন দুই মন্ত্রী দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সার্জন-অধ্যাপক থাকলেও ভিশনারি প্ল্যানিং নেই : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কেউ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকলে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি সারাদেশে একযোগে ৯৯ জন বিচারক বদলি কুমিল্লায় ট্রাকচালকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ৩ জন আটক ফেনীতে গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীকে কুপিয়ে জখম ; সোনাসহ নগদ টাকা লুট ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে ৩৭ হামলা চালালো সৌদি আরব ভেনেজুয়েলার ৪ বিলিয়ন ডলারের সোনার মজুত সরিয়ে নেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রে সৌদির নিরাপত্তায় যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত পাকিস্তান যশোরের শার্শায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মা ছেলে আটক
এইমাত্রপাওয়াঃ

যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে চীনের সাথে সম্পর্ক গড়ছে সৌদি আরব

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নাটকীয় এক ঘটনা ঘটে গেছে। সাত বছর আগে ভেঙে পড়া সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছে অঞ্চলের সবচেয়ে দুই প্রভাবশালী বৈরী দেশ সৌদি আরব ও ইরান।

বিস্ময়কর হলেও সত্য এই সম্পর্ক জুড়তে মধ্যস্থতা করেছে সৌদি আরবের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং বর্তমানে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর প্রতিপক্ষ চীন।

মার্চের দশ তারিখে বেইজিংয়ে সৌদি ও ইরানের কর্মকর্তাদের পাশে নিয়ে শীর্ষ চীনা কূটনীতিক ওয়াং ই এই বোঝাপড়ার কথা ঘোষণা করেন। তারপর দ্রুতগতিতে ঘটনা গড়াচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সল বিন ফারহান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ানের মধ্যে এক বৈঠক থেকে দুই মাসের মধ্যে দূতাবাস খোলা এবং তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে যাত্রী বিমান চলাচলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এমনকি, ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি সৌদি আরব সফরের জন্য বাদশাহ সালমানের একটি আমন্ত্রণও গ্রহণ করেছেন বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যে দেশটিকে ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো বোঝাপড়া, মীমাংসা অসম্ভব বলে মনে করা হতো, সেই যুক্তরাষ্ট্র এই পুরো প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব-প্রতিপত্তি যে দ্রুত কমছে ইরান-সৌদি মীমাংসা চুক্তিকে তার জলজ্যান্ত একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

এমন কথাও অনেক বিশ্লেষক বলছেন, সৌদিরা আট দশক পর শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথ নিয়েছে।

লন্ডনে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক সাদি হামদি অবশ্য মনে করেন এখনই এমন উপসংহার টানা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরষ্ট্রের যে দূরত্ব এখন দেখা যাচ্ছে সেটা যতটা না দুই দেশের মধ্যে তার চেয়ে বেশি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মধ্যে।

মূল সমস্যা বিন সালমানের সঙ্গে বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্পর্ক। কিন্তু আপনি জানেন না রিপাবলিকানরা ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি একইরকম থাকবে কি না।

তার মতে, সৌদি আরব যে বোঝাপড়া ইরানের সঙ্গে করেছে তা তার দেশের অর্থনীতির স্বার্থে কিছুটা বাধ্য হয়ে সন্ধি করার মতো।

হামদি বলেন, তেলনির্ভর অর্থনীতির বিকল্প ‘ভিশন টুয়েন্টি থার্টি’ নামে পরিচিত যে উন্নয়ন কর্মসূচি এখন যুবরাজ বিন সালমানের ধ্যান-জ্ঞান তা বাঁচাতেই এই আপস। কারণ ইরানপন্থি মিলিশিয়ারা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গত কয়েক বছরে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এতটাই হুমকিতে ফেলেছে যে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভয় পাচ্ছে।

গত ছয় বছরে তার ওই উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন পরিকল্পনায় পশ্চিমাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো বিনিয়োগ আসেনি। ফলে ইরানের সঙ্গে সন্ধি করা ছাড়া তার উপায় ছিল না।

এটা ঠিক যে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়ারা, বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি মিলিশিয়ারা, গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন তেলের স্থাপনাগুলো টার্গেট করছিল তা রিয়াদের জন্য চরম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে তাদের সবচেয়ে বড় তেলের স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সৌদিদের প্রচণ্ড ভীত করে তুলেছিল।

সেই ঘটনার পর থেকেই আমেরিকার ওপর ভরসা না করে নিজেরাই ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়া-মীমাংসার প্রক্রিয়া শুরু করে সৌদি আরব। ইরাকের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে তারা।

পরে, গত ডিসেম্বরে শি জিনপিং রিয়াদ সফরে গেলে সে সময় যুবরাজ বিন সালমান ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তার সাহায্য চান বলে নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন মিডিয়ায় পরে খবর হয়।

তবে তারপরও সৌদি আরব এখনো চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প ভাবতে শুরু করেছে তা মানতে রাজী নন সাদি হামদি। তার মতে, সাময়িক স্বার্থ হাসিলের কৌশল এটি সৌদি আরবের।

সৌদিরা জানে চীন মার্কিন প্রভাব বলয়ে হানা দিতে চায়। সুতরাং যুবরাজ বিন সালমান আশা করছেন চীনকে কূটনৈতিক সাফল্যের কিছু পুরস্কার দিয়ে তাদের কাছ থেকে কিছু বিনিয়োগ হয়তো আনা যাবে। সেই সঙ্গে আমেরিকানদেরও কিছুটা ঈর্ষান্বিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, চীন ও সৌদি আরবের মধ্যে এখনো বড় কোনো অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তি হয়নি। অধিকাংশই এমওইউ অর্থাৎ ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ।

হামদির মতে, সৌদি যুবরাজ এখন যেটা করছেন সেটা তার ‘প্ল্যান বি’।

কারণ যে মডেলে তিনি তার দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সামাজিক সংস্কারের কাঠামো গড়তে চাইছেন তা একেবারেই পশ্চিমা ধাঁচের। প্রযুক্তি পুরোপুরি পশ্চিমা।

এটা ঠিক যে সৌদি আরব ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক যে চাপে পড়েছে তা স্পষ্ট হতে শুরু করে হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে। মানবাধিকার নিয়ে যুবরাজ সালমানকে বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে ছাড়েননি বাইডেন।

কিন্তু অনেক বিশ্লেষক মনে করেন বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে যে পরিবর্তন হচ্ছে সৌদি আরব ও আমেরিকার সম্পর্কে দূরত্ব তারই পরিণতি। তার জেরেই সৌদি আরবের মতো দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে অন্ধকারে রেখে এমন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ নিচ্ছে বা নেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে।

কুয়ালালামপুরে মালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব চায়নার অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেন, বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যের একটা পরিবর্তন ঘটে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো দেখছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর বহুদিন ধরে হুকুমজারি চালিয়ে আসছে। সেনা-ঘাঁটি বসিয়ে রাখছে। অহেতুক তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলাচ্ছে। তারা এখন আর এসব পছন্দ করছে না। সার্বভৌমত্ব নিয়ে তারা সোচ্চার হচ্ছে, বিকল্প খুঁজছে।

অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক না গলানোর নীতির কারণে চীনকে মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশ বিকল্প হিসাবে দেখতে শুরু করেছে বলে মনে করেন ড. আলী।

তারা মনস্তাত্বিকভাবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের দীর্ঘদিনের নির্ভরশীলতা কমাতে উন্মুখ। বিকল্প হিসেবে তারা দেখছে আরেকটি শক্তিধর দেশ উঠে দাঁড়িয়েছে যারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মাথা গলায় না, এবং মাথা গলানোর তীব্র বিরোধিতা করছে।

তবে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন চীনকে এক নম্বর ভূ-রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে তাদেরকে কোণঠাসা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের নজর অনেকটাই সরিয়ে নিয়েছে। আর তার ফলেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এ ধরনের অভাবনীয় পরিবর্তনের লক্ষণ চোখে পড়ছে।

আজকের বাংলা তারিখ

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  


Our Like Page