অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বেলজিয়ামের পর ফ্রান্সে চলা বিক্ষোভের ঢেউ লেগেছে ইউরোপের আরেক দেশ সুইজারল্যান্ডে। দেশটির ফরাসি-ভাষী অঞ্চলের জেনেভা হ্রদের শহর লুজানের রাস্তায় নেমে এসেছেন শতাধিক বিক্ষোভকারী। ফ্রান্সের মতো এতটা সহিংস না হলেও শনিবার সন্ধ্যায় দোকান ও পুলিশের ওপর হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তারা পুলিশকে লক্ষ করে পাথর ও ককটেল ছুড়ে।
শহরের পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ফ্রান্সের ঘটনা ও দাঙ্গার প্রতিধ্বনি অনুসরণ করে একশোরও বেশি যুবক সেন্ট্রাল লুসানে জড়ো হয়েছিল। তারা দোকানপাটের ক্ষতি করেছে।
পুলিশ জানায়, সোশাল মিডিয়াতে বেশ কয়েকটি আহ্বানের পর সহিংসতা শুরু হয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি দোকানের জানালা ভেঙে দিয়েছে। এ সময় ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, সহিংস দাঙ্গার সময় কোনও আহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরপর শহরজুড়ে প্রায় ৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে মোতায়েন করা হয়েছিল।
জাতিগত উত্তেজনা : ফ্রান্সের প্যারিসের শহরতলী নন্তেরে মঙ্গলবার ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে এক কিশোরকে গাড়ি থামাতে বলে পুলিশ। তা না করায় ১৭ বছর বয়সী নাহেল নামের ওই কিশোরকে কাছ থেকে গুলি করেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনার প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা আলজেরীয় বংশোদ্ভূত নাহেলের হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশে গাড়িতে আগুন দিচ্ছে, অবকাঠামোতে ভাঙচুর করছে। এমনকি পুলিশের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।
তার মৃত্যুর দৃশ্যটি ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছিল; যা সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাটি ফ্রান্সে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পুলিশি সহিংসতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।
বৃহস্পতিবার বিক্ষোভটি বেলজিয়ামেও ছড়িয়ে পড়ে। সহিংস কর্মকাণ্ডের দায়ে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড