অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট জজ আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট প্রবাল চৌধুরী পূজনের ওপর হামলা ও বাসায় ভাঙচুরের ঘটনায় সিলেট মহানগর হাকিম আদালতে (প্রথম) মামলা করা হয়েছে।
মামলায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, সিলেট ইনঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মিছবাউল করিম রফিকসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট প্রবাল চৌধুরী পূজন বাদি হয়ে এই মামলা রুজু করেছেন।
রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম (প্রথম) আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান ভূঁইয়া মামলার অভিযোগপত্রটিকে এজাহার হিসাবে গণ্য করে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি নথিভুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন কোতোয়ালি থানা মডেল পুলিশকে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ও মামলার বাদী অ্যাডভোকেট প্রবাল চৌধুরী পূজন নিজে।

তিনি জানান, আসামিরা সিলেটে ভারতীয় চিনি চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত। তারা ছাত্র নয়। এমন লোকজনকে দিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে আমি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম। তাই তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে। হামলার সময় তারা গুলি করে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সিলেট নগরের দাড়িয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় প্রবাল চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পূজন পায়ে স্প্লিন্টার বিদ্ধ হন। এ সময় তার বাসায় ভাঙচুর করেন ছাত্রলীগ নেতারা।
এদিকে হামলার এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে শুক্রবার (১১ আগস্ট) চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপ দপ্তর সম্পাদক সানি মোহাম্মদ আকাশ।
তিনি জানিয়েছেন, হামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে। তাদের দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সত্যতা নিশ্চিত হতে পারলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলের নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিটির সদস্যরা হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফুয়াদ হোসেন শাহাদত, সহসভপতি বরিকুল ইসলাম বাধন, সহসভাপতি মাইনুল হাওলাদা ও আইন বিষয়ক সম্পাদক তাওহিদ বনি।
এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র এসে পৌঁছায়নি। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।