অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ‘পুরোপুরি ব্যর্থ’। আগামী দিনে ক্ষমতায় এলে ‘ডিপ্লোম্যাটিক’ বা কূটনৈতিক পথে দিল্লির কাছ থেকে তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝে নেবে বিএনপি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, “অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকার অস্ত্র উদ্ধারে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এখনও আশানুরূপ উন্নতি হয়নি।” তার মতে, দ্রুত এই পরিস্থিতির সমাধান না হলে জনমনে উৎকণ্ঠা বাড়বে। তবে নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি কিছুটা ইতিবাচক সুর বজায় রেখে বলেন, “আপাতত পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে, তবে প্রচার শুরু হলে আসল ছবিটা বোঝা যাবে।”
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই ভারতের সঙ্গে আলোচনা হবে। আমরা যদি সঠিক কূটনৈতিক আচরণ করতে পারি, তবে ভারতের বিরূপ মনোভাবও কমে আসবে।” তিস্তা চুক্তি নিয়ে তিনি সাফ জানান, বিএনপি বরাবরই জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। ক্ষমতায় গেলে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে পানির ন্যায্য অংশ আদায় করা হবে।
সম্প্রতি আইপিএল থেকে ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের বাদ পড়া নিয়ে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তাতেও মুখ খোলেন মির্জা মিখরুল। এক সময়ের ক্রিকেট প্রশাসক মির্জা ফখরুল বলেন, “ক্রিকেটের সঙ্গে দেশের সম্মান জড়িয়ে থাকে। আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা মানে দেশকে অপমান করা।” ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও ছোটখাটো বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল দাবি করেন, দেশের যা কিছু ইতিবাচক অর্জন, তার সিংহভাগই বিএনপির হাত ধরে এসেছে। তাঁর কথায়, “সংস্কারের পক্ষে বিএনপি বরাবরই ছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কিম্বা বিচারবিভাগের স্বাধীনতা সব বিএনপিই নিশ্চিত করেছে। আমাদের দেওয়া ৩১ দফাতেই আগামীর সংস্কারের রূপরেখা স্পষ্ট করা আছে।”
সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এটি জনগণের বিষয়। জনগণ যদি চায় তবেই তা হবে। তাঁর মতে, যারা কাজ না করে বিদেশ থেকে বড় কথা বলে, তারাই ফ্যাসিস্টদের ভয় পায়। বিএনপি রাজপথে লড়াই করতে জানে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া এলাকায় বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।