November 3, 2026, 11:49 pm
শিরোনামঃ
যশোরের বাঘারপাড়ায় ৪০ জন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা যশোরের শার্শায় আওয়ামী লীগ সমর্থকসহ ৪ জন আটক যশোরের কেশবপুরে স্বামী-স্ত্রী হত্যার ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকা আটক যশোরে আরও এক যুবলীগ কর্মী আটক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে জাপান সফরের অভিজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রী রাস্তায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনের মধ্যে হত্যার অধিকার পুলিশের আছে যদি প্রেক্ষাপট তৈরি হয় : তথ্য উপদেষ্টা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৩৮৫ জন আটক নওগাঁয় ক্লিনিকের পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার এক দিনেই সম্পদে বড় লাফ ; এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন আম্বানি
এইমাত্রপাওয়াঃ

আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি যাচাই-বাছাই করছে বাংলাদেশ

আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির সঙ্গে শেখ হাসিনা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :   ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানির প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিটি যাচাই-বাছাই করছে। ২০১৭ সালে তৎকালীন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার আদানি গ্রুপের সঙ্গে তাদের ঝাড়খন্ড ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিটি করে।

আজ (বৃহস্পতিবার) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তির শর্তাবলি এবং বিদ্যুতের জন্য যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ন্যায্য কি না সেটি মূলত খতিয়ে দেখতে চায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘আদানি গ্রুপের মতো ভারতীয় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে করা চুক্তি যাচাই-বাছাই করা হবে। কারণ দেশের আইন না মেনে বিদেশি কোম্পানি থাকতে পারে না। তাই সেসব তদন্ত হবে; এটি ভারতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করা হবে না। তারা এখানে (বাংলাদেশ) যা যা করছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। এজন্য বাংলাদেশকে কত মূল্য দিতে হচ্ছে, সেটা কি ন্যায়সঙ্গত? এসব প্রশ্ন উঠে আসবে।’

এ বিষয়ে আদানি পাওয়ারের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার আমাদের চুক্তিটি পর্যালোচনা করছে, এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। সত্যিকারের অংশীদারিত্বের মূল্যবোধ থেকে তাদের কাছে বিপুল পাওনা থাকা সত্ত্বেও আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখছি এবং তাদের কাছে আমাদের পাওনা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ করেছি। কারণ, এটি আমাদের কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।’

২০১৭ সালের নভেম্বরে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ঝাড়খণ্ড ইউনিটের (এপিজেএল) সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২৫ বছরের জন্য ১৪৯৬ মেগাওয়াট (নেট) বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় এজেপিএলের গোড্ডা প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত শতভাগ বিদ্যুৎ কিনে নেবে বাংলাদেশ। সম্পূর্ণ আমদানি করা কয়লায় পরিচালিত এই ইউনিটকে ২০১৯ সালের মার্চ ভারত সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে।

২০২৩ সালের এপ্রিল-জুনে গোড্ডা প্ল্যান্ট সম্পূর্ণরূপে বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের বেস লোডের ৭ থেকে ১০ শতাংশ সরবরাহ করে।

২০২৩-২৪ সালে এটি বাংলাদেশে প্রায় সাত হাজার ৫০৮ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা ভারতের রপ্তানি করা বিদ্যুতের প্রায় ৬৩ শতাংশ। দেশটি মোট ১১ হাজার ৯৩৪ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে। বাংলাদেশে ভারতের বিদ্যুৎ রপ্তানি মূল্যের হিসাবে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা এদেশে ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় ১০ শতাংশ।

সংবাদমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস গত ৯ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে জানায়, আদানি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছে, দেশটির বকেয়া ৫০ কোটি ডলারের বেশি, যা বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রক্রিয়াকে ‘অস্থির’ করে তুলছে।

জ্বালানি উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের মোট ৩৭০ কোটি ডলারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আদানিকে তাদের পাওনা ৮০ কোটি ডয়ারের মধ্যে ৪৯ কোটি ২০ লাখ ডলার দিতে দেরি হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ এর জুলাই-জুনে ভারতীয় কোম্পানিগুলো থেকে বাংলাদেশের আমদানি করা বিদ্যুতের গড় খরচ দাঁড়িয়েছে প্রতি ইউনিটে ৮ টাকা ৭৭ পয়সা। যদিও এটি কোম্পানি অনুযায়ী বিভিন্ন হয়। এনভিভিএল লিমিটেডের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট ছিল ৪.২২-৮.৪৫ বাংলাদেশি টাকা; পিটিসি ইন্ডিয়া লিমিটেডের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট ৯.০৫ বাংলাদেশি টাকা; সেমক্রপ এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে ৯.৯৯৫ টাকায় প্রতি ইউনিট এবং আদানির এপিজেএল থেকে কিনতে প্রতি ইউনিটে ১৪.০২ টাকা খরচ পড়ে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে উল্লেখ করতে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল ও  নিরপেক্ষ সম্পর্ক রাখতে চাই। কিন্তু শেখ হাসিনাকে (ভারতে) আশ্রয় দেওয়াটা একটা সমস্যা…। প্রথমে আমরা দেখেছি, তিনি সেখানে কিছু সময়ের জন্য ছিলেন এবং এখন তাকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কার্যকলাপ করার জন্য জায়গা দেওয়া হচ্ছে।’

ড. ইউনূস দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কাজ করছেন, সে বিষয়ে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘হাসিনা প্রশাসনকে নষ্ট করে ফেলেছেন, আর্থিক খাত ধ্বংস করে গেছেন, দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে, পিয়ন পর্যায়ের লোকও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমাদের প্রথমে রাষ্ট্রযন্ত্র চালু করতে হবে, এটিকে কাজ করতে হবে এবং তারপরে এগিয়ে যেতে হবে।’

আজকের বাংলা তারিখ

  • ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩
  • ২৩শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮
November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  


Our Like Page