স্টাফ রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের মহেশপুরে বেড়েছে ফুলের ক্ষেতের ব্যস্ততা। একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন ফুলচাষিরা। পরিচর্যা, ফুল তোলা ও বাজারজাতের প্রস্তুতিতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।
মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৪২ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ হয়েছে। উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতিবছরই এ অঞ্চলে ফুলচাষের পরিমাণ বাড়ছে।
উপজেলায় বর্তমানে ৬ থেকে ১০ প্রকার ফুলের চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, গ্লাডিওলাস ও জারবেরা। উৎপাদিত এসব ফুল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
ফুলচাষিরা জানান, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি ও স্বাধীনতা দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলোতে ফুলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। সারা বছর তারা এ সময়টির অপেক্ষায় থাকেন।
অন্য বছরের তুলনায় এবার ফুলের দাম কিছুটা বেশি থাকায় লাভের আশায় রয়েছেন চাষিরা।
উপজেলার ফুলচাষি আব্দুল হাকিম বলেন, “এই সময়টা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন ঠিকমতো পরিচর্যা করলে ভালো ফুল পাওয়া যায়। বাজারদরও ভালো, তাই পরিশ্রম সার্থক হবে বলে আশা করছি।”
মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, ফুলচাষকে আরও লাভজনক করতে কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ফুলের রোগবালাই দমন, সার ব্যবস্থাপনা ও ফলন বৃদ্ধির বিষয়ে চাষিদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
কৃষি বিভাগের মতে, সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক চাষপদ্ধতি অনুসরণ করলে মহেশপুরের ফুলচাষ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বৃহৎ বাজারগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।