অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক বড় শহরে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। কয়েক মাসের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের পর প্রতিবেশী দু’দেশের মধ্যে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাকিস্তানের আগের বিমান হামলার জেরে আফগান বাহিনী সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালায়। এর পরই নতুন এই অভিযান শুরু করে ইসলামাবাদ।
সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দু’দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গত অক্টোবরে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৭০ জনের বেশি নিহত হন। এরপর থেকে স্থল সীমান্তের বেশিরভাগ ক্রসিং বন্ধ রয়েছে।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে আফগানিস্তান। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর কয়েক দফা আলোচনা হলেও স্থায়ী সমঝোতা হয়নি।
সর্বশেষ সীমান্ত সহিংসতায় উভয় বাহিনীই ডজনখানেক সেনা নিহতের দাবি করেছে। এর আগে আফগানিস্তানে ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক হামলা ও সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার এক্সে জানান, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে ‘আফগান তালেবান প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান সরকারের সঙ্গে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ। এখন আমাদের ও আপনাদের মধ্যে উন্মুক্ত যুদ্ধ হবে।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী যেকোন ‘আগ্রাসী অভিপ্রায় গুঁড়িয়ে দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে’।
আকাশে যুদ্ধবিমান
কাবুলে কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে যুদ্ধবিমান ও একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এলাকাবাসি। পরে গোলাগুলির শব্দও শোনা যায়।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারের আকাশেও যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে। তালেবান সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা শহরটিতে অবস্থান করছেন।
তালেবান সরকার পাকিস্তানের বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, এতে কেউ হতাহত হননি।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি সীমান্তে ‘বড় আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার পুনরাবৃত্তির জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থল অভিযানে তাদের আট সেনা নিহত হয়েছেন।
তোরখাম সীমান্তের কাছে পাকিস্তান থেকে ফেরা নাগরিকদের একটি শিবিরে মর্টার শেল আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
নানগারহার প্রদেশের তথ্যপ্রধান কুরেশি বাদলুন বলেন, ‘একটি মর্টার শেল শিবিরে পড়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সাত শরণার্থী আহত হয়েছেন। একজন নারীর অবস্থা গুরুতর।’
অক্টোবর থেকে সীমান্ত অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকলেও আফগান প্রত্যাবাসনকারীদের পারাপারের অনুমতি ছিল।
সীমান্তে মাসের পর মাস সহিংসতা
মুজাহিদ এএফপিকে বলেন, কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে ‘জীবিত আটক’ করা হয়েছে। তবে ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ দাবি অস্বীকার করেছে।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশন জানায়, গত রোববার রাতে নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় অন্তত ১৩ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।
মঙ্গলবারও উভয়পক্ষ সীমান্তে গুলিবিনিময়ের কথা জানায়। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে একাধিক প্রাণঘাতী আত্মঘাতী হামলা হয়েছে।
ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হন। ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী ওই হামলার দায় স্বীকার করে ।
গত মাসে কাবুলের একটি রেস্তোরাঁয় প্রাণঘাতী আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করে গোষ্ঠীটির আঞ্চলিক শাখা ইসলামিক স্টেট-খোরাসান।
প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি বারবার ভেঙে যাওয়ার পর চলতি মাসে সৌদি আরব মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয়। এর মাধ্যমে অক্টোবরে আফগানিস্তানে আটক তিন পাকিস্তানি সেনাকে মুক্তি দেওয়া হয়।