August 26, 2026, 7:26 am
শিরোনামঃ
এইমাত্রপাওয়াঃ

আমরাও ভারতের জমি দখল করে রেখেছি : নেপালের প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ভারত যেমন নেপালের ভূখণ্ড দখল করেছে, তেমনি নেপালও ভারতের কিছু ভূখণ্ড নিজেদের দখলে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।

রোববার (৩১ মে) নেপালের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার এই দীর্ঘদিনের সুনির্দিষ্ট সীমান্ত বিরোধ নিরসনের মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় ঐতিহ্যবাহী যুক্তরাজ্য সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের পার্লামেন্টে শ্রম সংস্কৃতি পার্টির নেতা আরেন রাইয়ের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই বক্তব্য দেন। শাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আমি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জানতে পেরেছি, শুধু ভারতই নেপালের জমি দখল করেনি, নেপালও বিভিন্ন স্থানে ভারতের জমি দখল করেছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে বসে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।’

অন্যদিকে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি ‘ইউনিফায়েড মার্কসিস্ট-লেনিনিস্ট’ দলের উপ-সংসদীয় নেতা পদ্ম আরিয়ালের এক পৃথক প্রশ্নের জবাবে লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা নিয়ে বিরোধ প্রসঙ্গে শাহ স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো মূল্যে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নেপাল ইতিমধ্যে প্রতিবেশী চীন এবং দূরবর্তী যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে বলে শাহ পার্লামেন্টে জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ভারত ও চীনের সঙ্গেই নয়, যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমাদের মত হলো, যুক্তরাজ্যেরও এ বিষয়ে আগ্রহ দেখানো উচিত, কারণ এ সমস্যার সূত্রপাত সেই সময়ে, যখন ব্রিটিশ সরকার ভারত ছেড়ে গিয়েছিল।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল ইতোমধ্যে ভারতকে একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে। ওই নোটের বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে শাহ বলেন, ‘প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, উভয় সরকার ইতিহাসবিদ, জরিপবিদ এবং সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ড সম্পর্কে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে দল গঠন করবে এবং আলোচনার টেবিলে বসে সমাধান খুঁজবে।’

এর আগে, গত মে মাসের শুরুতে ভারত লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি নিয়ে নেপালের ঐতিহাসিক দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে। গত ৩ মে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘মহাকালী নদীর পূর্বে অবস্থিত লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি ১৮১৬ সালের ঐতিহাসিক সুগৌলি চুক্তির পর থেকেই নেপালের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

নেপাল জানায়, তারা কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারত ও চীন উভয় দেশকেই তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ভারতকে ধারাবাহিকভাবে অনুরোধ করে আসছে, যাতে বিতর্কিত ওই এলাকায় ‘সড়ক নির্মাণ বা সম্প্রসারণ, সীমান্ত বাণিজ্য এবং তীর্থযাত্রা’ সংক্রান্ত কোনো একক কার্যক্রম পরিচালনা না করা হয়। নেপাল আরও জানায়, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে চীনকেও অবহিত করেছে যে লিপুলেখ এলাকা নেপালের ভূখণ্ড।

নেপালের এই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান ‘ধারাবাহিক ও স্পষ্ট’ এবং লিপুলেখ পাস ‘১৯৫৪ সাল থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার একটি দীর্ঘদিনের স্বীকৃত পথ।’

তারও কয়েক দিন আগে, গত ১ মে ভারত ঘোষণা দেয়, ২০২৬ সালের কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৫০ জন করে তীর্থযাত্রী নিয়ে ১০টি দল উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস দিয়ে যাত্রা করবে এবং আরও ১০টি দল সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে যাবে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসও তীর্থযাত্রা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জানায়, চলতি বছরে ১ হাজার ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সফর সহজতর করতে চীন প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

আজকের বাংলা তারিখ

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  


Our Like Page