অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত কমাতে মধ্যস্থতার উদ্যোগ জোরদার করেছে পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটি।
সোমবার (১০ আগস্ট) তুরস্কের সরকারি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই জানান, আলোচনার জন্য আরাঘচি ও গালিবাফকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে’ দুই নেতা ইসলামাবাদ সফর করবেন। তবে সফরের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
বাঘেই বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এ সম্পর্কের অংশ হিসেবে পারস্পরিক সফর ও মতবিনিময় স্বাভাবিক বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকেই পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, এমন কয়েকটি দেশে হামলা চালায়।
এরপর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয়। দেশটির উদ্যোগে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি কাঠামোগত চুক্তি হওয়ার পথ তৈরি হয়।
তবে গত মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। পরে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সম্ভাবনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে বোমাবর্ষণ বন্ধের ঘোষণা দেন।
নতুন করে ইরানের দুই শীর্ষ নেতাকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান আবারও ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।