May 28, 2026, 4:35 am
শিরোনামঃ
দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  প্রথম ১০০ দিনেই ২০০ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বিএনপি সরকার ঈদযাত্রায় মানুষ স্বস্তিতে নির্ধারিত ভাড়ায় বাড়ি ফিরতে পারছে : সড়কমন্ত্রী  প্যারিসের উদ্দেশে ‎ঢাকা ছেড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস কোরবানির পশুর হাটে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পাবনার রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিকের রহস্যজনক মৃত্যু কিশোরগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্বৃত্তের হামলায় যুবক নিহত মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না সৌদি আরব ও পাকিস্তান বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করা হবে না : শুভেন্দু অধিকারী
এইমাত্রপাওয়াঃ

ইরানে হামলা করায় এবার তোপের মুখে ইসরায়েলের মোসাদ প্রধান

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া বর্তমানে নিজ দেশের রাজনীতিক ও নীতি-নির্ধারকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে বেনামী সূত্রের বরাতে জেরুজালেম পোস্ট দাবি করেছে, বার্নিয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় সরকারকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সেখানে অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করেছেন।

বিশেষ করে গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে তার সফরের সময় ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে তিনি এমন এক চিত্র তুলে ধরেছিলেন, যেখানে যুদ্ধ শুরু হলে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানি জনগণের বিদ্রোহে তেহরানের পতন হবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পরও তেমন কোনো গণঅভ্যুত্থান দৃশ্যমান না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল এখন মোসাদ প্রধানের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-এর এক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, বার্নিয়ার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো মূলত তার দেওয়া তথ্যের ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে। গোয়েন্দা প্রধানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বার্নিয়া সবসময়ই তার পূর্বাভাসে অনেকগুলো শর্ত ও সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করতেন এবং কখনোই শাসনব্যবস্থার দ্রুত পতনকে অনিবার্য বলে দাবি করেননি।

এমনকি চ্যানেল ১২-এর ‘উভদা’ এবং ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদনেও স্বীকার করা হয়েছে যে, বার্নিয়া যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা এবং রিয়েল-টাইম পরিস্থিতির জটিলতা নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব অতি-উৎসাহী হয়ে সেই সতর্কবার্তাগুলোকে উপেক্ষা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বার্নিয়া মূলত নেতানিয়াহুর নির্দেশে এবং তার নিয়ন্ত্রণে থেকেই নীতিনির্ধারণী উপস্থাপনাগুলো তৈরি করতেন। মোসাদের একটি পরিকল্পনা ছিল ইরাকের উত্তরাঞ্চলভিত্তিক ইরানি কুর্দি মিলিশিয়াদের দিয়ে ইরানে অনুপ্রবেশ ঘটানো, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই পরিকল্পনার প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

বার্নিয়া মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সময় থেকেই ‘ডেথ বাই আ থাউজ্যান্ড কাট’ বা ছোট ছোট অনেক আঘাতের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার কৌশল অনুসরণ করে আসছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন বড় মাপের সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, তখন সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং মোসাদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ইসরায়েলি রাজনীতিকদের ক্ষোভের একটি প্রধান কারণ হলো মোসাদের তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তের আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়া। এর আগে গত ৮-৯ জানুয়ারি ইরানে প্রায় ১০ লাখ বিক্ষোভকারী রাজপথে নামলেও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল তাদের সরাসরি কোনো সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন এবং গণজাগরণটি থমকে যায়।

অন্যদিকে গত ১৪ জানুয়ারি ট্রাম্পের ‘হেল্প ইজ অন দ্য ওয়ে’ টুইট এবং তড়িঘড়ি করে নেতানিয়াহুর ১১ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র সফর ইঙ্গিত দেয় যে, গোয়েন্দা তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাই যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে বেশি ভূমিকা রেখেছে। বার্নিয়াকে এখন বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে।

আজকের বাংলা তারিখ



Our Like Page