May 28, 2026, 6:01 am
শিরোনামঃ
দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  প্রথম ১০০ দিনেই ২০০ উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বিএনপি সরকার ঈদযাত্রায় মানুষ স্বস্তিতে নির্ধারিত ভাড়ায় বাড়ি ফিরতে পারছে : সড়কমন্ত্রী  প্যারিসের উদ্দেশে ‎ঢাকা ছেড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস কোরবানির পশুর হাটে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পাবনার রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিকের রহস্যজনক মৃত্যু কিশোরগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্বৃত্তের হামলায় যুবক নিহত মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না সৌদি আরব ও পাকিস্তান বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করা হবে না : শুভেন্দু অধিকারী
এইমাত্রপাওয়াঃ

ইরান আমাকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা বানাতে চেয়েছিল : ট্রাম্প

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন, ইরানের নেতৃত্ব তাকে দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির (এনআরসিসি) বার্ষিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এই দাবি করেন।

তিনি বলেন, আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর তেহরানের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই পদের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশের প্রধানই ইরানের প্রধান হওয়ার মতো কম আকর্ষণীয় কাজ আর চাইবেন না। তারা আমাকে বলেছিল যে তারা আমাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা বানাতে চায়, কিন্তু আমি বলেছি না ধন্যবাদ, আমি এটি চাই না।’

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে বাস্তব চিত্র হলো— আলী খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরান ইতিমধ্যে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেইকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করেছে। তবে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেছেন, তেহরান বর্তমানে পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের জন্য মরিয়া হয়ে আলোচনা করছে, যদিও জনসমক্ষে তারা তা অস্বীকার করছে।

ট্রাম্পের মতে, ইরানি কর্মকর্তারা চুক্তির জন্য অত্যন্ত আগ্রহী হলেও তারা নিজেদের দেশের জনগণের হাতে নিহত হওয়ার ভয়ে বা অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় সেটি স্বীকার করতে পারছেন না। একই সঙ্গে তারা মার্কিন বাহিনীর হাতেও প্রাণ হারানোর ভয়ে তটস্থ রয়েছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেন।

এদিকে হোয়াইট হাউস থেকেও দাবি করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। যদিও তেহরান প্রকাশ্যে আমেরিকার সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সংঘাত নিরসনে নিজেদের নতুন কিছু কঠোর শর্তারোপ করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’-র তথ্যমতে, তেহরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য বেশ কিছু গ্যারান্টি চেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে আমেরিকা ও ইসরায়েল আর কখনো হামলা করবে না এমন নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বের স্বীকৃতি। এই দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

গত এক মাস ধরে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরান তাদের সামরিক অবস্থান বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরানে বর্তমানে একটি বড় ধরনের ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্ব চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ নেতা’ হওয়ার এই দাবি মূলত ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ বিভেদ উসকে দেওয়ার একটি কৌশল। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধের ওপর নির্ভর করছে।

আজকের বাংলা তারিখ



Our Like Page