October 30, 2026, 11:09 am
শিরোনামঃ
চার দিনের জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তিন মাসে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ৪২ হাজার কোটি টাকা নভেম্বরে প্যাকেটজাত মসলা ও চা বিক্রি শুরু করবে টিসিবি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জয়ের পর জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ফুল নিয়ে মির্জা ফয়সল টাঙ্গাইলে মহাসড়কের পাশ থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাই হলে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না : শুভেন্দু অধিকারী বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্যাকের শিকার ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বিন্যান্স যশোরের দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলার সুস্থতা কামনা ঝিনাইদহের মহেশপুরে সারের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে ১২ জন আহত
এইমাত্রপাওয়াঃ

কুষ্টিয়ায় পীরকে পিটিয়ে হত্যা 

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (৬৫)কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ঘটনার পর দরবার এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগের একটি ভিডিও নতুন করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। শুক্রবার থেকে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শনিবার সকালে আবেদের ঘাট এলাকায় ঘোষণা দিয়ে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। পরে বেলা আড়াইটার দিকে মিছিল নিয়ে দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

নিহত শামীম রেজা ওই গ্রামের মৃত জেছের আলীর ছেলে এবং দরবারটির পীর ছিলেন। হামলার ঘটনায় তার তিন অনুসারী—জুবায়ের, মহন আলী ও জামিরুন নেছা আহত হন এবং স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, “মানুষজন দরবারে ভাঙচুর চালানোর সময় আমার ভাইকে দোতলা থেকে টেনে নামিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।”

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহামুদ বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেটিকে কেন্দ্র করেই বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, জনতার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজকের বাংলা তারিখ

  • ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩
  • ১৮ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮


Our Like Page