August 14, 2026, 4:27 pm
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে নেশার টাকার জন্য মাকে কুপিয়ে হত্যা যশোরের পল্লীতে পুকুরে ডুবে দুই বোনসহ তিনজনের মৃত্যু আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী ; মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয় : হাইকোর্ট নিরাপদ খাবার পানির প্রাপ্ততা বাড়াতে পারে ডাচ-বাংলাদেশ সহযোগিতা : রাষ্ট্রদূত নেত্রকোনায় কবরস্থানের জমিতে দোকানঘর নির্মাণ নিয়ে সংঘর্ষে ৫৬ জন আহত মুন্সীগঞ্জে ৩০ টাকা না পেয়ে অভিমানে শিশুর আত্মহত্যা অলাভজনক সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করবে ইন্দোনেশিয়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর অগ্নিবীর প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে নেপালে তরুণদের আন্দোলন
এইমাত্রপাওয়াঃ

খুলনায় মায়ের গলা টিপে ধরায় উপায় না পেয়ে মেয়ের মাথায় আঘাত করেন বাবা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :  খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী নির্জনা হত্যাকাণ্ডে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার বাবা আকাশ। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামানের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এর আগে গত ১০ জুলাই একই ঘটনায় মেয়ের মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাও আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) ডুমুরিয়া উপজেলার একটি দোকান থেকে র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন এবং স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। আদালত তার বক্তব্য রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জবানবন্দি ও তদন্তে উঠে এসেছে, গত ৮ জুলাই সকালে নির্জনা তার স্বামীর সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলেও পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে আনেন। পরে বিকেলে মায়ের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে নির্জনা মায়ের গায়ে হাত তোলেন এবং পরে তার গলা চেপে ধরেন। সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে বাবা আকাশ লাকড়ি দিয়ে আঘাত করলে সেটি নির্জনার মাথায় লাগে। এরপর তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি মারা যান।

মেয়ের মৃত্যুর পর ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহ সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন বাবা-মা। আকাশ কালো রঙের লুঙ্গি দিয়ে মরদেহ বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ির নিচে নামান। পরে মোটরসাইকেলে করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরার পর শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে মরদেহ ফেলে দেন। বাড়িতে ফিরে রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন তারা। সারা রাত কান্নাকাটির পর পরদিন সকালে দুজনই আত্মগোপনে চলে যান।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বস্তাবন্দি রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথমদিকে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পিবিআই ও সিআইডির মতো বিশেষায়িত সংস্থাও শুরুতে পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহত কিশোরীর ছবি প্রকাশের পরদিন বিকেলে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়।

ওসি আরও জানান, তদন্তের সময় সবচেয়ে সন্দেহজনক বিষয় ছিল, নিহতের মা-বাবার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। পরে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তদন্তের মাধ্যমে প্রথমে মাকে থানায় আনা হয়। প্রথমে তিনি কিছুই বলতে রাজি না হলেও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার পুরো ঘটনা স্বীকার করেন। এরপর ঘটনার ছয় দিন পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় এবং দশ দিন পর আকাশকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

উল্লেখ্য, খুলনা মহানগরীতে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পর থেকেই হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে।

আজকের বাংলা তারিখ

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  


Our Like Page