অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে ডেকে এনে আকাশ সরদার (২১) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় ২৭ দিন পর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাজহারুল ইসলাম মিঠু (৩০) নামে নিহতের এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার চাঁদপুর গ্রামের মো. করিম সরদারের ছেলে। গ্রেপ্তার মিঠু নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। তারা দুজনই আগে কম্বোডিয়ায় প্রবাসী ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার অপু মিয়ার মাধ্যমে আকাশ ও মিঠু কম্বোডিয়ায় যান। প্রায় তিন মাস আগে তারা দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর আকাশ বেকার হয়ে পড়লে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গত ২৭ জুলাই তাকে সোনারগাঁওয়ে ডেকে নেন মিঠু। পরে তাকে অপহরণ করে টঙ্গীতে নিয়ে আসা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে সুমন নামে এক ব্যক্তি আকাশকে আটকে রাখার কথা জানান। এরপর থেকে আকাশের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তার বাবা মো. করিম সরদার।
মামলায় মাজহারুল ইসলাম মিঠু, মো. অপু মিয়া ও মো. সুমন মিয়াকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিদার ভিত্তিতে র্যাব-১-এর একটি দল গত ২৩ আগস্ট টঙ্গী পশ্চিম থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিঠুকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেটের পাশে একটি পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়ানুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।