অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। জর্ডান-এর মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত মুয়াফফাক সালতি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র-এর ব্যাপক রণসজ্জার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, ঘাঁটিটিতে ৬০টিরও বেশি আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। কয়েক দিনের ব্যবধানে বহু কার্গো বিমান সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে সেখানে অবতরণ করেছে বলেও জানা গেছে।
চিত্রে আধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মূল রানওয়ের বাইরে বিশেষ ছাউনির নিচে আরও যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবেলায় ঘাঁটিটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জর্ডানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এসব সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই রণসজ্জা কেবল চুক্তির অংশ নয়; বরং ইরানের প্রতি একটি কঠোর বার্তা। সম্প্রতি ইরান-এর বিষয়ে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে কূটনৈতিক পথ সংকুচিত হয়ে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সূচনা হতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বনেতারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন, কারণ এ উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতিতে পড়তে পারে।