August 17, 2026, 4:39 am
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে হাসানের মৃত্যুর প্ররোচনাকারী তানিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ঝিনাইদহের মহেশপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালি খুলনার রূপসার যুবদলকর্মী হত্যা মামলার মূল শুটার যশোরে র‍্যাবের অভিযানে আটক যশোরের শার্শা থানা পুলিশের অভিযানে ছাত্রলীগ কর্মী আটক বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চলছে : প্রধানমন্ত্রী ১ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান সম্ভব নয় : অর্থমন্ত্রী অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদালতের ব্যাপারে কথা বলার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই : ইসি সচিব অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ; পা অবশ হওয়ায় চলাফেরা সীমিত চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় দুই জাহাজের সংঘর্ষ
এইমাত্রপাওয়াঃ

ঝিনাইদহে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

এম এ কবীর, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে “ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ১১ টায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা পিএএ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি এবং দৈনিক বীর জনতা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলী জোয়ার্দ্দার, এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ডিডি আব্দুল আলিম। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রথীন্দ্রনাথ রায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিয়া আক্তার চৌধুরী, ঝিাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবীর,সাধারণ সম্পাদক শাহিদুর রহমান সন্টু সহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা,সামজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। সভায় প্রধান অতিথি বলেন,
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তত্কালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম বাগানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস। এই অনুষ্ঠানে ঘোষিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। এর তিন সপ্তাহ পর বৈদ্যনাথতলা নামে পরিচিত ঐ বিশাল আমবাগান এলাকাকেই পরে ‘মুজিবনগর’ নাম দিয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত করতে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
সেই মাহেন্দ্রক্ষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী এবং ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে মন্ত্রিসভার সদস্য করে স্বাধীন বাংলা অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠন করা হয়। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে করা হয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। এই দিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও অনুমোদন হয়।
আওয়ামী লীগের চিফ হুইপ দিনাজপুরের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ইউসুফ আলীস্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। সেদিনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও শপথ অনুষ্ঠান সফলভাবে শেষ হয়েছিল মেহেরপুর ও মুজিবনগরের একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর সহযোগিতায়।

যাত্রা শুরু করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বিপ্লবী সরকারের মন্ত্রিপরিষদের আনুষ্ঠানিক শপথ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও মুক্তিবাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
সেদিন সকাল ৯টার দিকে তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম অন্য নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে বৈদ্যনাথতলায় পৌঁছান। গ্রামবাসীর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি শতাধিক সাংবাদিক এবং ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও আসেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক মার্ক টালি ও পিটার হেস। বহুল প্রতীক্ষিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা ১১টায়। মেজর আবু উসমান চৌধুরীর পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় ক্যাপ্টেন মাহবুব উদ্দীন আহমেদ ইপিআর আনসারের একটি ছোট্ট দল নিয়ে নেতৃবৃন্দকে অভিবাদন জানান। অভিবাদন গ্রহণের পর স্থানীয় শিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। গৌরীনগরের বাকের আলীর কুরআন তেলাওয়াত এবং ভবেরপাড়া গ্রামের পিন্টু বিশ্বাসের বাইবেল পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।
তিনি বলেন,বাংলা, বাঙালি, মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর যেন অভিন্ন নাম। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, বাঙালির সেই স্বাধীনতার সূর্য আবারও উদিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। একাত্তরের এই দিনে বাঙালি জাতি নতুন করে আবার জেগে ওঠে, মুছে দেয় পরাজয়ের গ্লানি। বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষার পর বৈদ্যনাথতলায় রচিত হয়েছিল আরেকটি ইতিহাস। আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আজকের বাংলা তারিখ

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  


Our Like Page