November 8, 2026, 10:37 pm
শিরোনামঃ
মাগুরায় জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালিত মাগুরায় জাতীয় সমবায় দিবস ও পণ্য প্রদর্শনী মেলা অনুষ্ঠিত যশোর ডিসি কার্যালয়ের সামনে বিয়ের সাজে ১৬ বছরের কিশোরী ; ২ জন আটক যশোরের শার্শায় এ্যালকোহল পানে যুবকের মৃত্যু এনজিওর সঙ্গে টিকতে সমবায়ের আমূল পরিবর্তন ও আইন পর্যালোচনা জরুরি : রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে : আইনমন্ত্রী ৩৫ টাকা দরে ৩ লাখ মেট্রিক টন ধান কিনবে সরকার : খাদ্যমন্ত্রী প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট : ইসি সচিব চট্টগ্রামে রেস্টুরেন্টে খাবার আগে দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ ; মহাসড়ক অবরোধ জয়পুরহাটের ডিসিকে অপসারণে জেলা ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
এইমাত্রপাওয়াঃ

ঝিনাইদহে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

এম এ কবীর, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে “ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ১১ টায় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন পুলিশ সুপার আজিম উল আহসান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা পিএএ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি এবং দৈনিক বীর জনতা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলী জোয়ার্দ্দার, এবং পরিসংখ্যান বিভাগের ডিডি আব্দুল আলিম। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রথীন্দ্রনাথ রায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিয়া আক্তার চৌধুরী, ঝিাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবীর,সাধারণ সম্পাদক শাহিদুর রহমান সন্টু সহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা,সামজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। সভায় প্রধান অতিথি বলেন,
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তত্কালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম বাগানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস। এই অনুষ্ঠানে ঘোষিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। এর তিন সপ্তাহ পর বৈদ্যনাথতলা নামে পরিচিত ঐ বিশাল আমবাগান এলাকাকেই পরে ‘মুজিবনগর’ নাম দিয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত করতে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
সেই মাহেন্দ্রক্ষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী এবং ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে মন্ত্রিসভার সদস্য করে স্বাধীন বাংলা অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠন করা হয়। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে করা হয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। এই দিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও অনুমোদন হয়।
আওয়ামী লীগের চিফ হুইপ দিনাজপুরের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ইউসুফ আলীস্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। সেদিনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ও শপথ অনুষ্ঠান সফলভাবে শেষ হয়েছিল মেহেরপুর ও মুজিবনগরের একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর সহযোগিতায়।

যাত্রা শুরু করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বিপ্লবী সরকারের মন্ত্রিপরিষদের আনুষ্ঠানিক শপথ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ ছাড়াও মুক্তিবাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
সেদিন সকাল ৯টার দিকে তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম অন্য নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে বৈদ্যনাথতলায় পৌঁছান। গ্রামবাসীর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি শতাধিক সাংবাদিক এবং ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও আসেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক মার্ক টালি ও পিটার হেস। বহুল প্রতীক্ষিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা ১১টায়। মেজর আবু উসমান চৌধুরীর পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় ক্যাপ্টেন মাহবুব উদ্দীন আহমেদ ইপিআর আনসারের একটি ছোট্ট দল নিয়ে নেতৃবৃন্দকে অভিবাদন জানান। অভিবাদন গ্রহণের পর স্থানীয় শিল্পীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। গৌরীনগরের বাকের আলীর কুরআন তেলাওয়াত এবং ভবেরপাড়া গ্রামের পিন্টু বিশ্বাসের বাইবেল পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।
তিনি বলেন,বাংলা, বাঙালি, মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর যেন অভিন্ন নাম। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, বাঙালির সেই স্বাধীনতার সূর্য আবারও উদিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। একাত্তরের এই দিনে বাঙালি জাতি নতুন করে আবার জেগে ওঠে, মুছে দেয় পরাজয়ের গ্লানি। বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষার পর বৈদ্যনাথতলায় রচিত হয়েছিল আরেকটি ইতিহাস। আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আজকের বাংলা তারিখ

  • ৯ই নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৪শে কার্তিক, ১৪৩৩
  • ২৮শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮
November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  


Our Like Page