অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ‘তাইওয়ান প্রণালীর উভয় পাশ চীনের। তাছাড়া, নিজের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা চীনের অধিকার এবং এটি করতে যা যা করা দরকার, তা করা উচিত। আর যারা তাইওয়ান নিয়ে আগুন আগুন খেলবে, শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরাই পুড়ে যাবে।’ শুক্রবার (২১ এপ্রিল) সাংহাইয়ে ল্যানটিং ফোরামে এমন মন্তব্য করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং।
ফোরামে কিন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ স্ব-শাসিত তাইওয়ান নিয়ে বিস্তারিতে আলোচনা করেন। এসময় তিনি আরও বলেন, বলা হচ্ছে, চীনের বিরুদ্ধে স্থিতাবস্থা লঙ্ঘন করে তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এমনকি, এর পক্ষে যেসব যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো অবাস্তব এবং চীনের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বিপজ্জনক।
তিনি আরও বলেন, পক্ষপাতহীন লোকজন খুব শিগগির দেখতে পাবে কে অধিপত্যবাদী আচরণ করছে আর কে যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছে। চীন মোটই কোনো অনৈতিক আচরণ করছে না, কিন্তু তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীগুলোসহ হাতে গোনা কয়েকটি দেশ ওই এলাকার স্থিতাবস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন উত্তর আমেরিকার কয়েকটি দেশে সফর করেন। দেশে ফিরে আসার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জলেসে যাত্রাবিরতি নেন ও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থির সঙ্গে বৈঠক করেন। চীন ওই বৈঠকের কড়া প্রতিবাদ করে ও এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
গত সপ্তাহে সাই ফিরে আসার পর, ম্যাকার্থির সঙ্গে তার বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের চারপাশে তিন দিনের সামরিক মহড়া চালায় চীন। এ মহড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান প্রণালী পাড়ি দেয়। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চীন বলে, অঞ্চলটিতে উত্তেজনা সৃষ্টির লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এমন কাজ করেছে।
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত স্বনির্ভর দ্বীপ তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে বেইজিং। তবে তাইওয়ান চীনের এ দাবি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানিজ নেতাদের সঙ্গে বিদেশি শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তাদের বৈঠকের তীব্র নিন্দা ও বিরোধিতা করে আসছে বেইজিং। সূত্র: আল জাজিরা