অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন যখন দক্ষিণ কোরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মহড়া শুরু করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া- মার্কিন সামরিক মহড়াকে যুদ্ধের মহড়া হিসেবেই দেখছে পিয়ংইয়ং।
কিম পূর্ব উপকূলে একটি নৌ ইউনিট পরিদর্শন করার সময় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি হয়েছিল বলে জানায় রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ। সেখানে তাকে অফিসারদের দ্বারা বেষ্টিত একটি জাহাজের ডেকের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে, কিম ঘাটে থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা দেখছেন। কেসিএনএ এই সফরের তারিখ নির্দিষ্ট করেনি বা মিসাইলগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
কেসিএনএ বলেছে, এই উৎক্ষেপণের লক্ষ্য ছিল জাহাজের যুদ্ধের কার্যকারিতা এবং এর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য যাচাই এবং প্রকৃত যুদ্ধে আক্রমণ মিশন চালানোর জন্য নাবিকদের সক্ষমতা উন্নত করা। জাহাজটি কোনো ত্রুটি ছাড়াই দ্রুত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছিল বলে জানায় কেসিএনএ। আর তাই সফরের সময় জাহাজটিকে উচ্চ গতিশীলতা ও কঠোর আঘাত করার শক্তি এবং আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলা লড়াইয়ের জন্য অবিরাম প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর জোর দেন কিম।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের লক্ষণগুলো শনাক্ত করেছে তারা। তবে কোনও ধরনের বিশদ বিবরণ ছাড়াই কেসিএনএ যেসব দাবি করেছে তা ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘বাস্তবতা থেকে আলাদা’ বলেও উল্লেখ করেছে তারা।
পিয়ংইয়ং যুদ্ধের মহড়া হিসাবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন- দক্ষিণ কোরিয়ার চলতে থাকা মহড়ার তীব্র নিন্দা করেছে এবং প্রতিক্রিয়া হিসাবে “অপ্রতিরোধ্য” পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করে আসছে।
অপরদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, এই বছরের মহড়া এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এবং জাতিসংঘ কমান্ডের কিছু সদস্য রাষ্ট্রও এতে অন্তর্ভুক্ত হবে। রয়টার্স বলছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের এই ঘটনা এমন সময় ঘটল যখন দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র সোমবার উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামার সামরিক মহড়া শুরু করেছে। মূলত উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই মহড়া চালানো হচ্ছে।