অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : নতুন প্রজন্মের ‘সরমাট’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে চলেছে রাশিয়া। সেনাবাহিনীর নতুন স্নাতকদের উদ্দেশে বুধবার এক বক্তৃতায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ কথা বলেছেন। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ১০টি অথবা তারও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।
বক্তব্যে রাশিয়ার এই ‘ত্রয়ী’ পারমাণবিক শক্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পুতিন। ‘সরমাট’ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূমি, সমুদ্র কিংবা আকাশপথ, সব স্থান থেকেই নিক্ষেপ করা যাবে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে পারমাণবিক ত্রয়ী প্রস্তুত করা। রাশিয়ার সামরিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় এটি ভূমিকা রাখবে।’ পুতিনের দাবি, যুদ্ধে ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধেক সেনা অত্যাধুনিক ইয়ার্স ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। তার বক্তব্য অনুসারে, অ্যাভাগার্ড হাইপারসনিক ওয়ারহেডসহ অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাদের পুনরায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। ‘অদূর ভবিষ্যতে’ সরমাট ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নতুন সরমাট ক্ষেপণাস্ত্রটি হাজার হাজার মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পশ্চিমের যে কোনো দেশে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা করতে পারবে মস্কো। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মস্কো থেকে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দূরে সাইবেরিয়ার ক্রাসনোয়ারস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। রুশ মহাকাশ সংস্থার সাবেক প্রধান দিমিত্রি রগোজিন এ কথা জানিয়েছেন। আগামী ৩০ থেকে ৪০ বছর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রুশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগু ক্রেমলিনের সেন্ট জর্জ হলে সমবেত স্নাতকদের উদ্দেশে একই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘সম্মিলিত পশ্চিম’ এখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রকৃত যুদ্ধ চালাচ্ছে। রাশিয়ার সামরিক ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তিকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আমরা এ অবস্থা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের প্রত্যাশা সরমাট ক্ষেপণাস্ত্র আমাদের নিরাপত্তাবিধানে যথার্থভাবে সহায়তা করবে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পুতিন বারবার বলে আসছেন, রাশিয়া তার ‘আঞ্চলিক অখণ্ডতা’ রক্ষায় সবকিছু করবে। এরই ধারাবাহিকতায় এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তিনি ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে মস্কোর পারমাণবিক ছাতার নিচে আনবেন। বলেছিলেন, যা রাশিয়ার সামরিক ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তিকে স্মরণ করে যে ‘সম্মিলিত পশ্চিম’ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘প্রকৃত যুদ্ধ’ চালাচ্ছে।