June 28, 2026, 5:13 pm
শিরোনামঃ
মাগুরায় স্কুলের কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় নারীসহ সরকারি শিক্ষক আটক মাগুরা ল কলেজের প্রথম হাইকোর্ট আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানকে সংবর্ধনা মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘স্পারসো’ আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী   এ বছরই আমি দেশে ফিরব : শেখ হাসিনা সংসদে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব আগস্টের শেষেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে রূপপুরের বিদ্যুৎ কক্সবাজারে নিখোঁজের একদিন পর ৭ কিলোমিটার দূরে পর্যটকের লাশ উদ্ধার রাজশাহীতে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত পৃথিবীতে ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না : ট্রাম্প
এইমাত্রপাওয়াঃ

নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে ইরান যুদ্ধে পাঠানোর দাবি

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : হোয়াইট হাউসের সাবেক উপদেষ্টা এবং ‘মাগা’ আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা স্টিভ ব্যানন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে সরাসরি ইরান যুদ্ধের সম্মুখ সমরে পাঠানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বক্তব্যে ব্যানন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে (ডিএইচএস) উদ্দেশ্য করে বলেন, মিয়ামিতে অবস্থানরত নেতানিয়াহুর সন্তানকে কালই বের করে দেওয়া উচিত।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন প্রয়োজন তখন ডিএইচএস কোথায় থাকে? তাকে অবিলম্বে ফেরত পাঠিয়ে সামরিক ইউনিফর্ম পরিয়ে যুদ্ধের প্রথম সারিতে মোতায়েন করা হোক। উল্লেখ্য, চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ইয়ার বা আভনার কেউই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আইডিএফ) যোগ দেননি, যা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।

বিশ্ব নেতাদের সন্তানদের যুদ্ধে পাঠানোর এই দাবি কেবল ইয়ার নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে নিয়েও একই ধরনের দাবি উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘ড্রাফট ব্যারন ট্রাম্প ডটকম’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প পরিবারের ভুয়া উদ্ধৃতি ব্যবহার করে ব্যারনকে ইরান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী প্রায় সব পুরুষের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ‘সিলেক্টিভ সার্ভিস’ বা ড্রাফটে নিবন্ধন করার নিয়ম থাকলেও ১৯৭৩ সালের পর দেশটিতে আর কোনো বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বা ড্রাফট কার্যকর করা হয়নি। তবে বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তানদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

স্টিভ ব্যানন কেবল নেতাদের সন্তানদের যুদ্ধেই পাঠাতে চান না, বরং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো দখলের বিষয়েও তার আগ্রাসী পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মিলে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের প্রস্তাব দিয়েছেন।
Thumbnail Toshif Hasan

ব্যাননের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেনাবাহিনী ছোট হলেও তারা যুদ্ধ করতে জানে। খার্গ দ্বীপটি ইরানের জন্য অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির মোট অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে চীনে রপ্তানি করা হয়। মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও বর্তমানে আলোচনা চলছে যে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের বাধা বন্ধ করতে এই দ্বীপটি দখল করা প্রয়োজন কি না।

ব্যানন তার বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের রাজপুত্রদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রার সমালোচনা করে তাদেরও যুদ্ধের ময়দানে নামানোর দাবি জানান। তিনি বলেন, কাতার ও সৌদি আরবের রাজপুত্রদের লন্ডনের ক্যাসিনো ও আমোদপ্রমোদ ছেড়ে অবিলম্বে উপসাগরীয় অঞ্চলে ফিরে আসা উচিত এবং তাদেরও সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে।

ব্যাননের এই কঠোর ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য মূলত বিশ্বজুড়ে চলমান ইরান যুদ্ধের উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যেখানে সাধারণ মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা ভোগ করছে, সেখানে ক্ষমতাধরদের সন্তানরা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। স্টিভ ব্যাননের এই দাবি এখন আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আজকের বাংলা তারিখ



Our Like Page