অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সভাপতি হেমন্ত সোরেন। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে দেশটির আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তকারী কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাকে গ্রেপ্তার করেছে ।
জেএমএমের সংসদ সদস্য মহুয়া মাঝি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ইডি হেফাজতে রয়েছেন। তিনি ইডি দলের সঙ্গে রাজ্যপালের কাছে গিয়েছিলেন পদত্যাগপত্র জমা দিতে।
২০০২ সালের আইন প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (পিএমএলএ) ৫০ ধারার অধীন একটি জমি কেলেঙ্কারির মামলায় অর্থ পাচারের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোরেনকে গত মাসে তলব করেছিল ইডি। রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে অবৈধ খনন ও জমি কেলেঙ্কারির দুটি মামলা ইডিতে তদন্তাধীন।
আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ইডি হেমন্ত সোরেনকে ৯ বার তলব করেছে। প্রতিবারই তিনি সেই তলব এড়িয়ে গিয়েছেন। ব্যক্তিগত কাজে দিল্লি থেকে ২৭ জানুয়ারি রাঁচির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রচারিত হয় গণমাধ্যমে। পরে ২৯ জানুয়ারি সকাল থেকেই সোরেনের দিল্লির বাড়িতে ১৩ ঘণ্টার তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি।
দিল্লির বাসভবনে ইডির তল্লাশির প্রতিবাদ করেছেন হেমন্ত সোরেন। তিনি তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য নির্দিষ্ট আইনের ধারায় ইডির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলাও করেছেন। এজাহারে মুখ্যমন্ত্রী সোরেন বলেছেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা এবং আমি তাদের (ইডি) কৃতকর্মের কারণে প্রচুর মানসিক চাপ এবং মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।’
সোরেন অভিযোগ করেছেন, ইডি দিল্লিতে তার বাসভবনে তাকে এবং তার সমগ্র সম্প্রদায়কে হয়রানি ও অপমান করার জন্য তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে।
মহুয়া মাঝি রাজ্যপালকে (গভর্নর) অনুরোধ করেছেন চম্পাই সোরেনকে ঝাড়খন্ডের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করতে।