অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ভারতে এক দশক ধরে ৩৩টি শিশুকে যৌন নির্যাতন ও সেই দৃশ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রির দায়ে এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) তদন্তে প্রমাণিত এই ঘটনায় আদালত অপরাধটিকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
শুক্রবার উত্তর প্রদেশের বান্দা জেলার বিশেষ পকসো আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ পি কে মিশ্র এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিতরা হলেন উত্তর প্রদেশের জলকল বিভাগের সাবেক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার রাম ভবন (৫০) ও তাঁর স্ত্রী দুর্গাবতী (৪৭)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বান্দা ও চিত্রকূট জেলায় তিন থেকে ১৩ বছর বয়সী অন্তত ৩৩ শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে তারা নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটের গোপন প্ল্যাটফর্মে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হতো।
ভয়াবহ এই চক্রের তথ্য প্রথম সামনে আসে ২০২০ সালে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) ডার্ক ওয়েবে শিশু নির্যাতনের কনটেন্ট শনাক্ত করে ভারত সরকারকে সতর্ক করে। এরপর কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো তদন্তে নেমে একই বছরের ৩১ অক্টোবর মামলা দায়ের করে এবং ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, এ ধরনের অপরাধ সমাজে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে এবং আসামিদের সংশোধনের সুযোগ নেই। ন্যায়বিচারের স্বার্থে সর্বোচ্চ সাজাই প্রযোজ্য।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত প্রতিটি ভুক্তভোগী শিশুকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য উত্তর প্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রায়ের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষায় ভারতের বিচারব্যবস্থা কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে।