অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : যশোরে রেজিস্ট্রি অফিসে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো নথি পুড়ে গেছে।
আজ শুক্রবার যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানিয়েছেন, ভবনের দুটি কক্ষে সংরক্ষিত পুরোনো নথি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরোনো রেজিস্ট্রি ভবনে আগুন লাগার তথ্য পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে আমরা দায়িত্বরত কাউকে পাইনি। আমরা তালা ভেঙে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করি। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে,’ বলেন তিনি।
ফিরোজ আরও বলেন, ‘ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা তদন্তে উঠে আসবে।’
‘তদন্তের পর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে,’ যোগ করেন এই কর্মকর্তা।
যশোর শহরের পোস্ট অফিস পাড়ায় বসবাস করেন শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন। এর আগে তিনি যশোর ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঘটনাস্থলে তার সঙ্গে কথা হয়। মিলন জানান, রেকর্ড কক্ষে ১৭৪১ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশপাশের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষিত ছিল।
‘অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া ভবনটি সাধারণত খোলা হতো না। পুরোনো প্রায় সব নথি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। অবশিষ্ট কিছু নথি আগুন নেভাতে গিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,’ বলেন তিনি।
মিলন জানিয়েছেন, কক্ষ দুটিতে থাকা ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র পুড়ে গেছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন। তিনিও জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে তিনি নৈশপ্রহরীকে দেখতে পাননি।