অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে ১০টি ‘মাইনসদৃশ’ বস্তু ও পাঁচটি খালি বাক্স উদ্ধার করা হয়েছে। বস্তুগুলো ল্যান্ডমাইন নাকি অন্য কোনো ধরনের পুরোনো বিস্ফোরক, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের কালু মালিথার পরিত্যক্ত জমি থেকে এসব বস্তু উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিতে কৃষিকাজ করার সময় স্থানীয় বাসিন্দা কাঁদো মালিথা মাটির নিচে কয়েকটি ধাতব বস্তু দেখতে পান। পরে মাটি খুঁড়ে সেখানে ১০টি ‘মাইনসদৃশ’ বস্তু ও পাঁচটি খালি বাক্স পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে পুলিশ গিয়ে এলাকা ঘিরে রাখে।
বামুন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো সক্রিয় ল্যান্ডমাইন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এগুলো পুরোনো বা নিষ্ক্রিয় বিস্ফোরকও হতে পারে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বস্তুগুলো পরীক্ষা ও নিরাপদে অপসারণের জন্য সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ (বোম্ব ডিসপোজাল) ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এগুলো ল্যান্ডমাইন কি না এবং সক্রিয় কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গাংনী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম টকি বলেন, বেতবাড়িয়া গ্রামের পাশেই ভারতীয় সীমান্ত। ১৯৭১ সালে ওই এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। তাঁর ধারণা, পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে যাওয়ার সময় এসব বিস্ফোরক সেখানে পুঁতে রেখে যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া একটি বস্তুর গায়ে ‘পাকিস্তান’ লেখা রয়েছে। সেখানে ‘এমপিআই ১৯৬৭ মাইন এ/পার্স এনডি পি২ এমকে২’ লেখা দেখা গেছে।