August 27, 2026, 11:56 am
শিরোনামঃ
রাষ্ট্রের কল্যাণে দলনিরপেক্ষভাবেই কাজ করব : রাষ্ট্রপতি সংসদে সরকারদলীয় এমপিদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক দুর্নীতির মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস-আমির খসরু নেপালের বন্যায় হতাহতদের স্মরণে সংসদে শোক প্রস্তাব ; সহায়তার বার্তা জানাল বাংলাদেশ জয়পুরহাটে নিখোঁজের ৫ দিন পর আখখেতে মিলল ইজিবাইক চালকের কঙ্কাল দিনাজপুরে সাবেক শ্রমিক লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও-সংঘর্ষ ভয়াবহ বন্যায় নেপাল-চীনের ১৫০০ জন মানুষ নিখোঁজ মতপার্থক্য সত্ত্বেও মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের আহ্বান করলো ইরান যুক্তরাষ্ট্রে ২৭ বছর পর ২০২৮ সালে শুরু হতে যাচ্ছে ৯/১১ হামলার ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৯০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক
এইমাত্রপাওয়াঃ

যুক্তরাষ্ট্রে ২৭ বছর পর ২০২৮ সালে শুরু হতে যাচ্ছে ৯/১১ হামলার

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৮ সালে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার তিন সহযোগীর বিচার প্রায় ২৭ বছর পর ২০২৮ সালের জুনে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন বিচারক। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) মার্কিন বিমান বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামার জারি করা বিচার-সময়সূচি নির্ধারণের আদেশে বলা হয়, খালিদ শেখ মোহাম্মদ এবং তার তিন সহযোগীর সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হবে ২০২৮ সালের ৫ জুন।

এর আগে প্রসিকিউটররা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে বিচারপূর্ব আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং কোন কোন তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা যাবে, তা নির্ধারণে আরও সময় প্রয়োজন বলে বিচারক সময়সীমা পিছিয়ে দিয়েছেন।

মামলার প্রধান আসামি খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, আলী আব্দুল আজিজ আলী ও মুস্তফা আল-হাউসাভিও বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁরা কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আটক রয়েছেন।

তবে ২০২৮ সালের নির্ধারিত তারিখেই বিচার শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ এর আগে একাধিকবার বিচার শুরুর সময় নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতায় তা পিছিয়ে গেছে। ২০২১ সালেও বিচার শুরুর একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা পরে বাতিল হয়ে যায়।

খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলায় চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করা হয়। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং একটি পেন্টাগনে আঘাত হানে। অপর বিমানটি যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হন।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আসামিদের ওপর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতি। গ্রেপ্তারের পর গোপন কারাগারে তাদের ওয়াটারবোর্ডিংসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করা হয়েছিল। এসব নির্যাতনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আইনি বিতর্ক চলছে।

২০২৪ সালে আসামিদের সঙ্গে একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিনিময়ে তারা দোষ স্বীকার করতে রাজি হয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক ও নিহতদের স্বজনদের আপত্তির পর সেই চুক্তি বাতিল করা হয়। ফলে মামলাটি আবার পূর্ণাঙ্গ বিচারপ্রক্রিয়ায় ফিরে আসে।

২০০৩ সাল থেকে আটক থাকা খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এখনো চূড়ান্ত রায় হয়নি। বেসামরিক আদালতের পরিবর্তে গুয়ান্তানামো বে-র বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার পরিচালনার সিদ্ধান্তও মামলাটিকে আরও জটিল করেছে। আদালতটির এখতিয়ার, কার্যপ্রণালি এবং প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনি চ্যালেঞ্জ হয়েছে।

ফলে হামলার প্রায় ২৭ বছর পরও বিচার শুরু না হওয়া নিয়ে ভুক্তভোগীদের পরিবার, মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। ইতোমধ্যে হামলায় নিহত অনেকের বাবা-মা ও বয়োজ্যেষ্ঠ স্বজন বিচার দেখে যেতে পারেননি।

নতুন সূচি অনুযায়ী, সব বিচারপূর্ব আইনি বিরোধ নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি করা গেলে ২০২৮ সালের ৫ জুন থেকে এই বহুল আলোচিত মামলার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আজকের বাংলা তারিখ



Our Like Page