অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইরানে যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। ইরান সংসদের স্পিকার বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তবে ইসরায়েলসহ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ পরিবহন কেন্দ্রগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে হামলার হুমকি দেওয়ার পর ইরান এই বার্তা দিয়েছে।
এদিকে, প্রাণঘাতী সরকারি দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে আন্দোলনকারীরা। বিবিসির যাচাই করা ভিডিও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে দেখা যায়, বিক্ষোভের বিরুদ্ধে সরকার আরো কঠোর অবস্থানে গিয়েছে। এই আন্দোলন ইরানের প্রতিটি প্রদেশের একশটিরও বেশি শহর ও নগরে ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ–এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী।
দুটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, দুদিনে একশটিরও বেশি মরদেহ আনা হয়েছে। দেশজুড়ে নিহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানের রাজধানী তেহরানে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন।
এখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের অবসান দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, যারা বিক্ষোভ করবে তাদের ‘এনিমি অফ গড বা প্রভুর শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
এদিকে, খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘একদল দুষ্কৃতকারী’ অভিহিত করে বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুশি করতে এই আন্দোলন করছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘জনগণের যদি কোনো উদ্বেগ থাকে, আমরা তা শুনব। এটি আমাদের কর্তব্য। কিন্তু সর্বোচ্চ কর্তব্য হলো দাঙ্গাবাজদের সমাজকে অস্থিতিশীল করতে না দেওয়া।’ তিনি ‘দাঙ্গাবাজদের’ বিরুদ্ধে জনগণকে এক হওয়ার আহ্বান জানান।
পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দোষারোপ করে বলেন, তারা অস্থিরতাকে আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘তারা দেশ ও বিদেশের কিছু ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা বিদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের দেশে (ইরান) নিয়ে এসেছে।’
আন্দোলনকারীদের নিহতের ঘটনায় ইরানের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সহায়তা করতে প্রস্তুত’ যেহেতু ইরান ‘স্বাধীনতা চাইছে।’
একটি মানবাধিকার গ্রুপ জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই হাজার পাঁচশ’ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।