November 5, 2026, 4:20 am
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় কাভার্ড ভ্যান চুর্নবিচুর্ন ; চালক নিহত যশোরে বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালকসহ দুই জন নিহত মাগুরায় সাকের হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ; মূল পরিকল্পনাকারীসহ প্রধান আসামি আটক বিনিয়োগ ও যোগাযোগ বাড়াতে চীনের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ; ব্যয় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকা এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয় ; পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ পার হতে বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে : রাষ্ট্রদূত কক্সবাজারের ইনানীতে ভাড়া বাসা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত
এইমাত্রপাওয়াঃ

যে ৪ কারণে ইউএনওদের ক্ষমতা কোমায়েছেন হাইকোর্ট

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা খর্ব করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ক্ষমতা দেওয়ার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি এবং দীর্ঘদিন পর সেসব রুলের শুনানি শেষে রায় প্রদান করেন হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের রায়ে উপজেলা পরিষদে ইউএনওদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকার বিধান বাতিল ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে ইউএনওদের ক্ষমতা খর্বের পেছনে চারটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন উচ্চ আদালত।

মামলার বিবরণী অনুসারে, ১৯৯৮ সালের উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ ধারায় ২০১১ সালে সংশোধনী আনা হয়। ধারাটিতে ইউএনও পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়া এবং পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিপালন করার বিষয়ে বলা আছে। তবে সংশোধিত ৩৩ ধারা সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দুমকি উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি একটি রিট দায়ের করেন। পাশাপাশি একই বিধানের বৈধতা নিয়ে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিনহাদুজ্জামান লিটন একই বছর আরেকটি রিট দায়ের করেন। রিটের পৃথক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

রিটের শুনানি নিয়ে দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) মতো নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এছাড়াও হাইকোর্ট তার আদেশে উপজেলা পরিষদ ভবনের সাইনবোর্ডে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের পরিবর্তে ‘উপজেলা পরিষদ কার্যালয়’ লেখা সাইনবোর্ড টানানোর নির্দেশ দেন। একই আদেশে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ এর ধারা ১৩ (ক), ১৩ (খ) ও ১৩ (গ) কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

দীর্ঘদিন পর ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি করে গত ২৯ মার্চ উপজেলা পরিষদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ সংক্রান্ত উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ ধারা বাতিল করেন হাইকোর্ট। এর ফলে উপজেলা চেয়ারম্যানদের ওপর ইউএনও’দের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব থাকলো না বলে জানান আইনজীবীরা। তবে উপজেলা পরিষদে ইউএনও’রা সাচিবিক সহায়তা দেবেন বলেও রায়ে বলা হয়। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

পরে রায়দানকারী দুই বিচারপতির সইয়ের পর ২৪ পৃষ্ঠার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত রায়ে উপজেলা পরিষদে ইউএনওদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকার বিধান বাতিল ও অসাংবিধানিক ঘোষণার কারণ হিসেবে চারটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন আদালত। পর্যবেক্ষণগুলো হচ্ছে—

১. উপজেলা পরিষদগুলো উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮ এর ২৪ ধারার অধীনে গঠিত/প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদের সঙ্গে ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত একটি স্থানীয় সরকার।

২. জাতীয় সংসদে উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৮ এর ৩৩ ধারা সংশোধনীর মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের সব প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের কাছে দায়বদ্ধ না করে প্রশাসনকে (ইউএনওদের) দিয়েছে। যা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরিষদ এবং সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে উপজেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮ এর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। অতএব, উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ ধারা (যা ২০১১ সালের আইন নম্বর ২১ ধারা অনুযায়ী (সংশোধিত) সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে বাতিলযোগ্য।

৩. ‘সরকারি তহবিল’ দিয়ে অর্থায়নকৃত উন্নয়নের উদ্যোগগুলো ইউএনওদের নেতৃত্বে এবং তাদের সভাপতিত্বে গঠিত সংশ্লিষ্ট কমিটি বাস্তবায়ন করে। এছাড়া উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ২৯ ধারা অনুযায়ী উপজেলায় সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠিত হয় না। তাই এসব কারণে রিটকারীদের দাবি এখানে ব্যর্থ হয়।

৪. ‘উপজেলা পরিষদ’ এর জায়গায় ইউএনও কর্তৃক তাদের চিঠিপত্রে ‘উপজেলা প্রশাসন’ পরিভাষাটি ব্যবহার করে উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ এর ২৬ ধারার বিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে। যা কিনা বৈধ কর্তৃত্ব ছাড়াই ঘোষণা করা হয়েছে, তাই এর কোনও আইনি কার্যকারিতা নেই।

এদিকে রায়টি স্থগিত চেয়ে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তাদের সে আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৫ এপ্রিল বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের রায়টি আগামী ৫ জুন পর্যন্ত স্থগিত করেন। পাশাপাশি মামলাটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়টি চেম্বার জজ আদালত স্থগিত করেছেন। আগামী ৫ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রায়টি শুনানির জন্যও দিন ধার্য রয়েছে। আমরা শুনানির জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

আজকের বাংলা তারিখ

  • ৫ই নভেম্বর, ২০২৬
  • ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩
  • ২৪শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮
November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  


Our Like Page