অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর পথসভায় উপস্থিত হয়ে নৌকায় ভোট চেয়েছেন বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হক খান। তিনি তানোর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোজাম্মেল হক খান। এছাড়া তিনি সরনজাই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।
মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলার সরনজাই ইউপির শিধাইড় ক্লাব মোড়ে তিনি নৌকায় ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় ওই পথসভায় নৌকার প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাইনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পথসভায় মোজ্জামেল হক বলেন, ‘আমার একটা মেসেজ, যেহেতু আমাদের বিএনপি নির্বাচন করছে না। অর্থাৎ বিএনপির প্রার্থী নাই। অতএব বিএনপির লোকেরা ভোট না দিলেও কিন্তু আগামী ৭ জানুয়ারি একজন এমপি নির্বাচিত হবেন। আল্লাহ যার ভাগ্যে লিখে রেখেছেন। আমরা চাইব, আমাদের তানোর ও গোদাগাড়ীর উন্নয়ন হোক। এখন আমি যদি অন্য আমের গাছ লাগাই আর ফজলি আমের প্রত্যাশা করি, তাহলে কি হবে? কখনোই হবে না। অতএব উনি (বর্তমান সংসদ সদস্য) একজন পরীক্ষিত মানুষ। এই মানুষ রেখে হঠাৎ নতুন লোক আসবে, এটা শিখতে শিখতেই কিন্তু পাঁচ বছর চলে যাবে। অতএব আমরা নৌকায় ভোট দিতে ভুল করব না।’
বিএনপির সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা বিএনপি করেন, বিএনপির সমর্থিত ভোটার আছেন। তাদের কাছে আমার মেসেজ, আমরা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাব, ভোট দেব আমাদের তানোরের মানুষ, তানোরের অহংকার ও তানোরের গর্ব ওমর ফারুক চৌধুরীকে নৌকায় ভোট দেবো।’
নিজের ভোটারদের উদ্দেশে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘শুনেন, আপনারা আমাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছেন, এলাকার উন্নয়ন কাজ করার জন্য। এখন এমপি আবারও যদি ওমর ফারুক চৌধুরী হন, তাহলে উনার কাছ থেকে যেসব কাজ আমরা পাব, অন্য কারও কাছে ওই কাজ আশা করতে পারি না। আমরা এখন দায়িত্বে আছি, আমরা জানি। কার দ্বারা কী করা সম্ভব। অতএব আমি আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করব, উনি পরীক্ষিত লোক। উনার যে অভিজ্ঞতার দাম, এই দামটাকে সহযোগিতা করতে হবে। যাতে উনার অভিজ্ঞতা তানোর-গোদাগাড়ীর মানুষের উন্নয়নে কাজে লাগে।’
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, মোজাম্মেল হক বর্তমানে বিএনপির কোনো পদে নেই। নৌকায় ভোট চেয়ে পথসভায় বক্তব্য দিয়ে থাকলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়, অবশ্যই দলীয় বক্তব্য নয়। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে তানোরের সংসদ সদস্যের গলায় ফুলের মালা পড়ানোর কারণে বিএনপি তাকে শোকজ করেছিল বলে জানান গোলাম মোস্তফা মামুন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর ফুলের মালা পড়িয়ে মোজাম্মেল হক খান আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন বলে খবর ছড়ায়। তখন তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ছাত্রদল করেছি, যুবদল করেছি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম। এখন আহ্বায়ক কমিটিতে আছি। আমি কেন আওয়ামী লীগে যোগ দেবো? সংসদ সদস্য স্নেহ করে বলে ফুলের মালা দিয়েছেন। এতে দোষ কি, উল্টো প্রশ্ন করেন তিনি?