অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার ধানুহাটারপাড়য় আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ধর্মগ্রন্থ পোড়ানোর ঘটনায় উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে হামলার শিকার হয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের বেশ কয়েকজন আহত হন। একইসঙ্গে পুলিশের সরকারি কাজে বাধাদানের উদ্দেশে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় সোমবার (৭ আগস্ট) মামলাটি করেছেন কোতোয়ালি থানার এসআই অঞ্জন কুমার দেবনাথ। মামলায় অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ১৩টি লাঠি, ২৩টি ইটের টুকরা ও একটি আগুনে পোড়াসহ দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ জানান, ঘটনার খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উল্টো হামলার শিকার হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার রাত ১০টার দিকে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্মগ্রন্থ পোড়ানোর অভিযোগ ওঠে। রাত ১১টার দিকে হঠাৎ উত্তাল হয়ে ওঠে সিলেট মহানগরের আখালিয়া এলাকা। স্থানীয় জনতা তাদের দুজনকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যান ও ওই শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানটির একটি কক্ষে আটকে রেখে ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রক্ষা করে।
এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। সময় যত বাড়তে থাকে পরিস্থিতি তত উত্তপ্ত হয়। রাত ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ টিম সিআরটি এবং জালালাবাদ ও কোতোয়ালি থানার অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব-৯ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
এ সময় উত্তেজিত জনতার একাংশ সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সড়ক থেকে সরাতে ১২টার পর বাধ্য হয়ে ফাঁকা গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। ধীরে ধীরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে উত্তেজিত জনতা। রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। এ সময় অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।