October 30, 2026, 1:08 pm
শিরোনামঃ
চার দিনের জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তিন মাসে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ৪২ হাজার কোটি টাকা নভেম্বরে প্যাকেটজাত মসলা ও চা বিক্রি শুরু করবে টিসিবি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জয়ের পর জামায়াত প্রার্থীর বাসায় ফুল নিয়ে মির্জা ফয়সল টাঙ্গাইলে মহাসড়কের পাশ থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাই হলে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না : শুভেন্দু অধিকারী বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্যাকের শিকার ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম বিন্যান্স যশোরের দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক একরাম-উদ-দ্দৌলার সুস্থতা কামনা ঝিনাইদহের মহেশপুরে সারের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে ১২ জন আহত
এইমাত্রপাওয়াঃ

সেবাগ্রহীতাদের হয়রানী করেন মহেশপুরের স্বরুপপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস

এম এ কবীর, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের মহেশপুরের স্বরুপপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিস মগের মুল্লুক বানিয়েছেন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস। ঘুষ, দুর্নীতি ও হয়রানির পাশাপাশি নিচ্ছেন খাজনার অতিরিক্ত টাকা। ঘুষের টাকা না পেলে সেবা গ্রহীতাদের অহরহ হয়রানি করেন। জমির নামজারি, ডিসিআর ও মিসকেসসহ বিভিন্ন খাত থেকে  টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে ইউনিয়নের ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস বেশি হয়রানি করেন নামজারি, দাখিলা কাটা ও মিসকেস নিয়ে। নামজারীর জন্য অনলাইনে আবেদন করা হলেও প্রতিবেদন নিতে তাকে ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। টাকা না দিলে প্রতিবেদন দিতে দেরী করেন। এ ভাবে তিনি মানুষকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আবার নামজারী কেস মঞ্জুর হলে ডিসিআরের জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবী করেন। এরপর হোল্ডিং নাম্বারের জন্য ভূমি অফিসে গেলে সেখানেও থাবা বসান নিকুঞ্জ কুমার।

স্বরুপপুর ইউনিয়নের কুশাডাঙ্গা গ্রামের আবু বক্কর অভিযোগ করেন, তার পিতা আবরুজ আলী  ও মা আরজু বানুর হুদা কুশাডাঙ্গা মৌজার ৩৬০৪ নং দাগে ৫৩ শতক ধানী জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য গেলে অতিরিক্ত টাকা না দেয়া পর্যন্ত নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস খাজনার রশিদ দেননি। তিনি অভিযোগ করেন, তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে ১০২ টাকার দাখিলা দিয়েছে। একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন তাকে ৮০ টাকার দাখিলা দিয়ে তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়েছে।

কুসুমপুর গ্রামের ইদু ফকিরের ছেলে আবুল কাসেম বলেন  কুসুমপুর মৌজার ৮৬৪ খতিয়ানে ৭৬ ও ৪৫৭ নং দাগে ধানী ও ডাঙ্গা জমির ৭২ শতক জমির নামজারি ও ভূমি কর পরিশোধ করার জন্য ভূমি কর্মকর্তা নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাসের কাছে গেলে তিনি ৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। তিনি শেষ পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজার টাকায় রফা করেছেন বলে জানান। কেশবপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলী মন্ডলের ছেলে হোসেন আলী অভিযোগ করেন, তাকে ১৮০ টাকার দাখিলা দিয়ে ৩ হাজার টাকা নিয়েছে নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস। আর যারা ঘুষের টাকা দিতে পারে না, তাদের খাজনা নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কুশাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাকিম বলেন জানান, তিনি খাজনা দিতে বহুবার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাসের কাছে গেছেন, কিন্তু ঘুষর টাকা না দিলে জমির খাজনা গ্রহন করেননি। তিনি বলেন আমি ৩ হাজার টাকা খাজনা দিয়ে ১৮০ টাকার দাখিলা দিয়েছে। এ ভাবে নিকুঞ্জ শত শত জমির মালিকের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। একই গ্রামের মাজেদা বেগমও ৩ হাজার টাকা দিয়ে ১৮০ টাকার দাখিলা পেয়েছেন।

এ বিষয়ে স্বরুপপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস  অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ সব অভিযোগ সত্য নয়। তিনি বলেন, জমির মালিকরা খুশি হয়ে যা দেন তার বাইরে আমি এক টাকাও গ্রহন করি না। এখন মানুষ যদি খুশি হয়ে বেশি টাকা দেয় তাহলে আমরা কি করার আছে।

মহেশপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরিফ শাওন জানান, এবিষয়ে ভূক্তিভোগীরা তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তিনি নিজে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। তিনি বলেন দুর্নীতি করে কেউ পার পাবেন না।

আজকের বাংলা তারিখ

  • ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩
  • ১৮ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮


Our Like Page