অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ২০৪১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সঙ্গে দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জেলা পরিষদ মেম্বারস্ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব বলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকারব্যবস্থার অন্যতম স্তর ঐতিহ্যবাহী জেলা পরিষদকে কার্যকর করার জন্য আইন ও বিধিমালাতে সংশোধন এনেছেন। জেলা পরিষদের সদস্যদের স্থানীয় জনগণের সমস্যার সমাধানের পথ এতে সুগম হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রত্যেকটি সদস্যই স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দান করেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, দেশ ও মানুষকে নেতৃত্ব দেয়ার মধ্য দিয়ে এ রকম একটি মর্যাদাশীল আসনে আপনারা অধিষ্ঠিত হয়েছেন। আজকে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আজকে সারা বিশ্বের একটি মর্যাদাশীল জায়গায় স্থান করে নিয়েছে। ২১ বছর পর্যন্ত সামরিক শাসকরা যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছেন এবং হত্যার সুবিধাভোগীরা দেশ পরিচালনা করেছেন তারা এবং তাদের উত্তরসূরীরা বাংলাদেশকে হতদরিদ্র দেশ ছাড়া আর কিছুতে রূপান্তরিত করেননি। খাদ্য ঘাটতি পূরণ করতে পারেন নাই, বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেন নাই, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারেন নাই, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করতে পারেন নাই, শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নতি করতে পারেন নাই।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে আমরা ভিক্ষুকের জাতি আর মিসকিনের জাতি হিসেবে খ্যতি লাভ করেছিলাম। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ধারনাই পরিলক্ষিত হয়েছে পৃথিবীতে যদি বাংলাদেশ উন্নত হয় তাহলে পৃথিবীতে আর কোন অনুন্নত জাতি থাকবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু উপন্যাস শেখ হাসিনা ৯৬ সালের প্রথম ক্ষমতায় এসে ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করতে বেশ কিছু কর্মসূচি দিলেন। শত বছরের খাদ্য-ঘাটতীর বাংলাদেশকে সাড়ে তিন বছরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেন।
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে তোলা বিভিন্ন দাবির কথা উল্যেখ করে মন্ত্রী বলেন, আপনাদের সব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা না গেলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে। ভুলে গেলে চলবে না আপনারা জনপ্রতিনিধি, জনগণের সমস্যার সমাধানের জন্যই আপনারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এ সময় মন্ত্রী জেলা পরিষদের সদস্যদেরকে অন্যদের মাঝে দৃষ্টান্ত হিসেবে নিজেদেরকে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টির চেয়েও দেশের কল্যাণে কতটুকু কাজ করতে পারছি সেটাই আমাদের চিন্তা হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের যে ধারায় বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন তাতে ধীরে ধীরে জেলা পরিষদের সদস্যদের আরো ক্ষমতায়ন করা হবে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, তবে সবকিছুর উপর জনগণের কল্যাণকেই আপনাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। জেলা পরিষদ একসময় নিষ্ক্রিয় ছিল। এখন তাকে সক্রিয় করা হয়েছে। এতে সুযোগ-সুবিধার বিভিন্ন ঘাটতি এখন আমাদের নজরে আসছে, চেষ্টা করা হবে সব সমস্যারই আস্তে আস্তে সমাধান করার জন্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মলয় চৌধুরী জেলা পরিষদ মেম্বারস্ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা এবং আমরা সবাই বাংলাদেশ। আমরা দক্ষ ও যোগ্য নেত্রী পেয়েছি। তিনি বাংলাদেশের আমুল পরিবর্তন করেছেন। এই পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশে যাতে সম্মান হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন।’
ড. মলয় চৌধুরী বলেন, আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে উন্নয়ন কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের গত বছরও ৩৯ হাজার কোটি টাকার ডেভলপমেন্ট কাজ হয়েছে। অন্য মন্ত্রণালয় যখন কাজ করতে পারে না তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাদের মন্ত্রীর কাছে সেই কাজ দেন যে সেই ডেভলপমেন্ট কাজের সমাধান করার জন্য। জেলা পরিষদের সদস্যদের সমস্যাগুলো নিশ্চয়ই তিনি ধীরে ধীরে সমাধান করবেন এবং এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে সমস্ত সহযোগিতা করা হবে।
বাংলাদেশ জেলা পরিষদ মেম্বারস্ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. বাবুল মিয়া দাবিগুলো উত্থাপন করে বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের মর্যাদা সরকারিভাবে নির্ধারণ করার দাবি জানাই। এছাড়া সন্মানি ভাতা বৃদ্ধি, পদাধিকার বলে সদস্যদের ভোটাধিকার বাতিল করতে হবে, নির্বাচিত সদস্যদের স্ব-স্ব জেলার ডাক বাংলাতে একটি কক্ষে অফিস দিতে হবে, নির্বাচিত সব সদস্যকে মোটরজানের (গাড়ি) ব্যবস্থা করতে হবে এবং নির্বাচিত সদস্যদের উপজেলা চেয়ারম্যানদের সমান মর্যাদা দিতে হবে এবং জেলা উপজেলার মাসিক ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আমিনুর রহমান। এছাড়া সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জেলা পরিষদ মেম্বারস্ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. বাবুল মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জেলা পরিষদ মেম্বারস্ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বি.এম. তৌফিক ইসলাম।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী জেলা পরিষদের সদস্য আমিনুর রহমান, খুলনা জেলা পরিষদের সদস্য চৌধুরী রাইহান, বরিশাল জেলা পরিষদের সদস্য জিল্লুর রহমান, বাগেরহাটের প্যানেল চেয়ারম্যান মনিরুল জামান ঝুমুর, গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য সেলিম শিকদারসহ প্রমুখ।