April 28, 2026, 12:14 pm
শিরোনামঃ
অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী দেশে বর্তমানে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে : তথ্য উপদেষ্টা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো আদানির ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাপানে বিপুল জনশক্তি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পাবনার রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু খাগড়াছড়িতে বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলে কৃষকের টিনের ঘরে চলতি মাসের বিদ্যুৎ বিল ১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ইরানকে বড় ছাড় দিতে হবে : ফ্রান্স ১ মে এর পর আইনত যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে ট্রাম্পকে জাতিসংঘ পরমাণু সম্মেলনের সহ-সভাপতি হলো ইরান
এইমাত্রপাওয়াঃ

খাগড়াছড়িতে বিদ্যুৎ বিভাগের ভুলে কৃষকের টিনের ঘরে চলতি মাসের বিদ্যুৎ বিল ১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলায় আবারও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্বল্প আয়ের এক কৃষক পরিবারের ঘরে হঠাৎ করে এক লাখের বেশি টাকার বিদ্যুৎ বিল আসায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

রামগড়ের পাতাছড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাহবুবনগর গ্রামের কৃষক হারুনুর রশীদের টিনশেডের ছোট ঘরে চলতি মার্চ মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ লাখ ৪ হাজার ১১১ টাকা। অথচ তার স্বাভাবিক মাসিক বিল থাকে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারুনুর রশীদের পরিবারে তিনি ও তার স্ত্রী বসবাস করেন। ঘরে মাত্র তিনটি বাতি, দুটি ফ্যান এবং একটি পানি তোলার মোটর রয়েছে। সীমিত ব্যবহারের পরও এত বিপুল অঙ্কের বিল আসায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন।

এর আগের মাসগুলোতেও তার বিল স্বাভাবিক ছিল—জানুয়ারিতে ৮৮ টাকা এবং ফেব্রুয়ারিতে ৯২ টাকা। কিন্তু মার্চ মাসে হঠাৎ ৭ হাজার ইউনিট ব্যবহার দেখিয়ে বিল দাঁড়ায় ১ লাখ ৪ হাজার ১১১ টাকা।

ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ পায় জালিয়াপাড়া বাজারে, যখন হারুন বিল পরিশোধ করতে গেলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকানদার অস্বাভাবিক অঙ্ক দেখে অবাক হন। পরে তিনি বিলের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করলে বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

পরে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে বিলের কপি সংগ্রহ করে এবং ভুল স্বীকার করে সংশোধনের আশ্বাস দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রামগড় এলাকায় এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রায়ই গ্রাহকেরা অস্বাভাবিক ও ভুল বিলের শিকার হচ্ছেন। এমনকি সরকারি অফিসেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ করতে গেলে অনেক সময় শুধু ‘পরের মাসে ঠিক হয়ে যাবে’ বলে আশ্বস্ত করা হয়, কিন্তু বাস্তবে সমস্যা সমাধান হয় না।

এ বিষয়ে রামগড় বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী কাওসার আহমেদ প্রথমে মন্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, মিটার রিডিং নোটে ৭০ ইউনিটের স্থলে ভুল করে ৭ হাজার ইউনিট লেখা হওয়ায় এই বিপুল অঙ্কের বিল তৈরি হয়েছে। ভুল সংশোধন করে নতুন বিল প্রদান করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এদিকে, ভুক্তভোগী কৃষক হারুনুর রশীদ দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল যেন না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত তদারকি ও সঠিক মিটার রিডিং নিশ্চিত না করলে এমন ভুতুড়ে বিলের ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে, যা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আজকের বাংলা তারিখ



Our Like Page