অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : গাজীপুর থেকে চুরি যাওয়া শিশুকে বগুড়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জাকিয়া আক্তার জান্নাত এবং রাকিবা আক্তার আঁখি নামের দুই তরুণীকে আটক করা হয়।
সোমবার দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার সাত্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
৯৯৯-এর একটি সূত্র জানায়, গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সদরের মজিদ মার্কেট এলাকার রহিম উদ্দীন নামের এক চা দোকানি তার স্ত্রী এবং সাড়ে সাত মাস বয়সী ছেলে সন্তান রোহানকে নিয়ে দুপুরে বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী তার সন্তানকে নিয়ে যান। ভাইয়ের স্ত্রী মাঝে মাঝে তার ছেলে সন্তানকে নিয়ে রাখতেন। আবার সময়মতো ফিরিয়েও দিয়ে যেতেন। কিন্তু এবার অনেকক্ষণ পরও ফিরিয়ে না দেওয়ায় তার কাছে ছেলেকে চাইতে যান রহিম উদ্দীনের স্ত্রী। সন্তান চাইতে গেলে ওই প্রতিবেশী চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ছেলেকে আনার কথা অস্বীকার করেন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ভাষ্যমতে, এরপর অনেক অনুরোধেও ভাতৃবধূ কিছুতেই স্বীকার করেননি। এমন তথ্য জানিয়ে এবং আইনি সহায়তার অনুরোধ জানিয়ে রহিমউদ্দীন ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে ফোন করেন রবিবার বিকাল সাড়ে চারটায়। আর কলটি রিসিভ করেছিলেন ৯৯৯ কলটেকার কনস্টেবল জান্নাতুল ফেরদৌস। কনস্টেবল জান্নাত তখনই জিএমপির সদর থানয় ঘটনাটি জানিয়ে দ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জানায়। পরবর্তীতে ৯৯৯ ডেসপাচার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার তৎপরতার আপডেট নিতে থাকেন।
৯৯৯ এর একটি সূত্র জানায়, সংবাদ পেয়ে গাজীপুর সদর থানার পুলিশ দল তদন্তে নামে। জানা যায় কলারের ভাতৃবধু’র দুইজন পরিচিত মহিলা শিশুটিকে আদর করার কথা বলে কোলে নিয়ে এক ফাঁকে পালিয়ে যায়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ওই দুই মহিলার অবস্থান শনাক্ত করা হয় বগুড়ায়। পরবর্তীতে বগুড়া সদর থানা পুলিশের সহায়তায় ২৭ আগস্ট রাতে শিশুটিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। আর চুরির অভিযোগে জাকিয়া আক্তার জান্নাত এবং রাকিবা আক্তার আঁখিকে আটক করা হয়। আর উদ্ধারকৃত শিশুটিকে তার মা-বাবার কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় গাজীপুর সদর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছ। গাজীপুর সদর থানা পুলিশ দলের নেতৃত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) বায়েজীদ নেওয়াজ ৯৯৯-কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।