October 9, 2026, 9:23 pm
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরের পদ্মপুকুরে জমির রেকর্ড সংশোধন ও নামজারি নিয়ে মানববন্ধনের জের ; আদালতের রায় ও ডিক্রি পেল প্রাধান্য মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি শুধু ডিগ্রি নয় ; প্রয়োজন বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আতপ চালের চাহিদা জানতে গবেষণা শুরু করেছে এফপিএমইউ কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা ; চট্টগ্রাম থেকে প্রধান আসামি আটক খুলনায় পুলিশ পরিদর্শককে কুপিয়ে জখম দ্রুত ইমাম মাহদীর আগমন হোক : মোজতবা খামেনি  সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে তুরস্ক হুথিদের হামলায় সৌদি আরবে ৪ নাগরিক নিহত যশোরের শার্শায় পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে আরো ২ জন আটক
এইমাত্রপাওয়াঃ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে ক্ষমা চাইল ব্রিটিশ সরকার

আইনজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চৌধুরী মঈনুদ্দীন

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট ব্রিটিশ নাগরিক চৌধুরী মঈনুদ্দীনের দায়ের করা মানহানির মামলায় রয়েল কোর্ট অব জাস্টিসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সাথে তাঁকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মতি জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসের একটি বেঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী উপস্থিত হয়ে প্রকাশ্য ক্ষমা চান এবং চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে ২ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হন।

মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এটি ব্রিটিশ সরকারের কোনো বিভাগ কর্তৃক তার নাগরিককে প্রদত্ত সর্বোচ্চ মানহানি ক্ষতিপূরণগুলোর মধ্যে একটি।

২০১৯ সালে ব্রিটিশ হোম অফিসের ওয়েবসাইটে কমিশন ফর কাউন্টারিং এক্সট্রিমিজম-এর একটি প্রতিবেদনে ‘চ্যালেঞ্জিং হেইটফুল এক্সট্রিমিজম’ শিরোনামে চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে ‘এক্সট্রিমিজমের’ (চরমপন্থা) সাথে জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়। এতে প্রমাণ হিসেবে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তৎকালীন বিতর্কিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রায়কে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই চৌধুরী মঈনুদ্দীন ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি কোনো প্রকার মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না এবং বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালের ২০ জুন যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট তার পক্ষে যুগান্তকারী সর্বসম্মত রায় দেয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি লর্ড রিড-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচারক প্যানেল ঐ রায়ে মন্তব্য করেন,

‘যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের চেয়েও গুরুতর অভিযোগ নিজের নাগরিকের বিরুদ্ধে কল্পনা করা কঠিন। যখন এই ধরনের অভিযোগ সরকারের পক্ষ থেকে তার নিজের নাগরিকের বিরুদ্ধে আনা হয়, তখন তা বিশেষভাবে গুরুতর।’

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ধারাবাহিকতায়, মঙ্গলবার ব্রিটিশ সরকার আদালতকে জানায় যে, চৌধুরী মঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের যে অভিযোগ হোম অফিস প্রকাশ করেছিল, তা মিথ্যা ছিল। এরপর হোম অফিস ‘অফার অব অ্যামেন্ডস’ প্রদান করে তাদের ওয়েবসাইটে ক্ষমা প্রার্থনা প্রকাশ করে।

চৌধুরী মঈনুদ্দীনের আইনজীবী টিউডর আদালতে বলেন, এই মিথ্যা অভিযোগের কারণে তার মক্কেলকে “মানবজাতির সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের অভিযোগ তুলে ধরে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছিল”।

শুনানির পর মঈনুদ্দীন বলেন, “এই ফলাফল আমার জন্য আনন্দের, গৌরবের। সত্যের প্রভাব যে চিরস্থায়ী—তা আবারো প্রমাণিত হলো। ন্যায়বিচার পাওয়ার এই দীর্ঘ পথে অনেক সময়ই আমার জন্য হতাশাজনক ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক হয়েছে। তবে আমি আনন্দিত যে বৃটিশ আইনব্যবস্থা, আদালত ব্যবস্থা এবং এই দেশের সরকার আমার প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে।”

১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ও ১৯৮৪ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের নাগরিক চৌধুরী মঈনুদ্দীনের পক্ষে বিখ্যাত ল’ফার্ম কার্টার-রাকের আইনজীবী অ্যাডাম টিউডর ও নাতাশা ডোলির নেতৃত্বে গঠিত একটি দল এই মামলায় প্রতিনিধিত্ব করেন। এই রায়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে নজির স্থাপন করলেন তিনি।

 

আজকের বাংলা তারিখ

  • ১০ই অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩
  • ২৮শে রবিউস-সানি, ১৪৪৮
October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page