April 29, 2026, 11:51 am
শিরোনামঃ
ঢাকাকে গ্রিন সিটি করতে ৫ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী জুলাই থেকে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস দেবে সরকার : শিক্ষা মন্ত্রী ২৮ বছরে পরিশোধ করবে বাংলাদেশ রূপপুর প্রকল্পের ৯০% ঋণ দেশের বাজারে আবারও কমলো স্বর্ণ ও রুপার দাম পাবনায় পুকুর ইজারা নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৬ জন আহত ময়মনসিংহে ধানক্ষেত থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার ইরানের পরমাণু নিয়ে আমার চেয়েও বেশি উদ্বিগ্ন রাজা চার্লস : ট্রাম্প জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পদ্ধতিতে জেট ফুয়েল তৈরি করছে চীন ইরানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান ঝিনাইদহের মহেশপুরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত
এইমাত্রপাওয়াঃ

ইরানকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : আঞ্চলিক বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে ইরানকে নিজ ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।

দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ‘পাকিস্তান থ্রু ট্রানজিট ট্রেড টু ইরান অর্ডার, ২০২৬’ শিরোনামের এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে যেকোনো তৃতীয় দেশ থেকে আসা পণ্য এখন পাকিস্তানের ওপর দিয়ে সড়কপথে ইরানের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

একে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর ফলে বালুচিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাকিস্তান সরকার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৫০ সালের আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই আদেশটি বিশেষভাবে সেইসব পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যেগুলোর উৎস পাকিস্তানের বাইরে এবং যেগুলো কেবল গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করবে।

এই ট্রানজিট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাকিস্তান বেশ কয়েকটি করিডোর ও রুট নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্র ও স্থলপথের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে গোয়াদর, করাচি এবং পোর্ট কাসিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ হাবগুলো থেকে পণ্যবাহী চালানগুলো বালুচিস্তানের বিভিন্ন রুটের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরানের সীমান্তে পৌঁছাবে।

নির্ধারিত রুটগুলোর মধ্যে গোয়াদর-গাবদ করিডোর ছাড়াও লিয়ারি, মাইরা, পাসনি এবং গাবদ-এর মতো উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ পয়েন্টগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া করাচি ও পোর্ট কাসিম থেকে খুজদার, ডালবানদিন এবং তাফতান হয়ে ইরানে পণ্য পৌঁছানোর অতিরিক্ত রুটও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একটি দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ করিডোর গোয়াদরকে তুর্বত, হোশাব, পাঞ্জগুর, নাগ, বেসিমা, খুজদার, কোয়েটা (লাক পাসের মাধ্যমে), ডালবানদিন এবং নোকুন্দি হয়ে তাফতানের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যে, করাচি ও গোয়াদরের এই রুটগুলো ট্রানজিট চালানের প্রাথমিক প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে, যা ব্যবসায়ী ও লজিস্টিক অপারেটরদের পণ্য পরিবহনে বাড়তি সুবিধা দেবে।

জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার অধীনে সমস্ত পণ্য চলাচল ১৯৬৯ সালের কাস্টমস অ্যাক্ট বা শুল্ক আইনের অধীনে প্রণীত নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। এছাড়া পুরো পরিবহন প্রক্রিয়াটি ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ বা এফবিআর-এর নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী কঠোরভাবে পরিচালিত হবে যাতে সঠিক তদারকি ও নিয়মনীতি নিশ্চিত করা যায়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান-ইরান ট্রানজিট করিডোর চালু করেছিল এবং তখন করাচি থেকে তাশখন্দের উদ্দেশ্যে প্রথম রপ্তানি চালান হিসেবে হিমায়িত মাংস পাঠানো হয়েছিল। পাকিস্তানকে একটি আঞ্চলিক ট্রানজিট হাবে পরিণত করার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার কৌশলগত অংশ হিসেবেই এই নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

আজকের বাংলা তারিখ



Our Like Page