November 6, 2026, 2:26 am
শিরোনামঃ
যশোরে বনফুলে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে লাখ টাকা জরিমানা যশোরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত ;  চালক আহত বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে যুবলীগ নেতা হিমাংশু পাল আটক যশোরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতনামা নারীর মৃত্যু এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার করিডোরে ভূরাজনৈতিক শঙ্কা দেখছে না ঢাকা : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পরোয়ানা ছাড়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার নয় বিষয়টি বিবেচনায় আছে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী সুনামগঞ্জে তরুণ-তরুণীর প্রেম ও বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত মুন্সিগঞ্জে আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
এইমাত্রপাওয়াঃ

শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্কের দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। এই বিকল্পগুলোর মধ্যে সামরিক বাহিনী ব্যবহারের বিষয়টিও রয়েছে।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ও তার দল এই গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নানা বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার মতো বিকল্পও তার হাতে আছে। এ খবর বিবিসি’র।

হোয়াইট হাউজ বিবিসিকে জানিয়েছে, ডেনমার্কের অধীনে থাকা আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনাটা তাদের কাছে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়গুলোর একটি।

কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা ডেনমার্কের পক্ষে যৌথ বিবৃতি দেওয়ার পরপরই এই মন্তব্য আসে।

ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরেই আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের বিরোধিতা করে আসছে। কিন্তু গত সপ্তাহের শেষে ট্রাম্প আবারও বলেছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন।

এর জবাবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালায়, তাহলে তা নেটো জোটের সমাপ্তি ঘটাবে।

নেটো একটি ট্রান্স আটলান্টিক সামরিক জোট। অর্থাৎ, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার কয়েকটি দেশ এর সদস্য। চুক্তি অনুযায়ী, নেটোভুক্ত এক দেশের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা।

মঙ্গলবার ইউরোপের ছয়টি দেশ ডেনমার্কের প্রতি তাদের সমর্থন জানায়। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও ডেনমার্কের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড তার জনগণের। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক ছাড়া অন্য কেউ তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।’

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর নেতারা জোর দিয়ে বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতোই আগ্রহী ও সচেতন। তবে তাদের মতে, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে নেটোর সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও থাকবে।

সেইসঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা মেনে চলতে বলেন। যার মাঝে আছে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অমান্য না করা।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন এই যৌথ বিবৃতিকে স্বাগত জানান এবং সম্মানজনক সংলাপের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনা করতে হবে আন্তর্জাতিক আইন এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার নীতির প্রতি সম্মান রেখে।

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আবার সামনে আসে সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর।

ওই অভিযানে মার্কিন বিশেষ বাহিনী গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায় এবং তারপর তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগ আনে।

ভেনেজুয়েলায় চালানো ওই অভিযানের একদিন পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক শীর্ষ উপদেষ্টা স্টেফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রং ব্যবহার করে গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করেন। মানচিত্রটিতে লেখা ছিল, ‘শিগগিরই’।

গত সোমবার স্টেফেন মিলার বলেন, গ্রিনল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। এটাই এখন মার্কিন সরকারের সরকারি অবস্থান।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে বারবার জিজ্ঞেস করা হয়, গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাতিল করছে কিনা। জবাবে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেউ লড়াই করবে না।

বর্তমানে দ্বীপটিকে ঘিরে রাশিয়া ও চীনের আগ্রহ বাড়ছে। কারণ গ্রিনল্যান্ডে এখনও ব্যবহার না হওয়া বিরল খনিজ সম্পদের মজুত রয়েছে, আর বরফ গলে যাওয়ায় নতুন বাণিজ্যিক নৌপথ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে ট্রাম্প বলেন, এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে যত দূর যেতে হয়, যুক্তরাষ্ট্র তত দূর যাবে।

বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষের বসবাস। ১৯৭৯ সাল থেকে সেখানে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও সেখানকার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনও ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও জরিপে দেখা গেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে তাদের মাঝে প্রবল আপত্তি রয়েছে।

আজকের বাংলা তারিখ

  • ৬ই নভেম্বর, ২০২৬
  • ২২শে কার্তিক, ১৪৩৩
  • ২৫শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮
November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  


Our Like Page