অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই বিক্ষোভকারীরা দেশে সহিংসতা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গাবাজ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান এই বিক্ষোভকে ‘সহিংস নাশক কার্যক্রম ও ব্যাপক ভাঙচুরে’ রূপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন, হুমকি, উসকানি এবং অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতাকে ইচ্ছাকৃতভাবে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ‘বড় বিপদে’ রয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে এই বিক্ষোভ। এ দফায় টানা ১৩ দিন ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। এর মাঝে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসবের জেরে কেউ কেউ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও তুলেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৪৮ থেকে ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। দেশজুড়ে এখনো ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে।
খামেনি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না এবং ‘ধ্বংসাত্মক উপাদান’ কঠোরভাবে দমন করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরান বড় বিপদে আছে। বিক্ষোভকারীদের ক্ষতি করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি, যদিও সরাসরি সেনা পাঠানোর কথা বলেননি।
এ ঘটনায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি প্রাণহানির নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘও উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।