অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চলতি বছরের শেষ নাগাদ কিউবার কমিউনিস্ট শাসন উৎখাত করার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্য পূরণে তারা কিউবা সরকারের এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে যারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করে শাসন পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারেন।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কিউবার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকলেও, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিযানে অপহরণের ঘটনাকে কিউবার জন্য একটি “নীলনকশা এবং সতর্কতা” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ামি এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে কিউবান নির্বাসিত ও নাগরিক গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করে এমন একজন সরকারি কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে, যিনি “চুক্তি করতে ইচ্ছুক” এবং কমিউনিস্ট শাসন উৎখাতে সহযোগিতা করতে পারেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মাসের শুরুতে তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে কিউবাকে সরাসরি হুমকি দিয়ে লিখেছেন, আমি দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি যে, তারা খুব দেরি হওয়ার আগেই একটি চুক্তি করুক। তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউএস স্টাডিজ সেন্টারের মার্কিন রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞ ডেভিড স্মিথ বলেন, হোয়াইট হাউস হয়তো অত্যধিক আশাবাদী যে, শুধু হুমকিই কিউবার সরকারকে উৎখাত করতে যথেষ্ট হবে। তিনি ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানেও ট্রাম্প হুমকি দিয়ে সরকারের আত্মসমর্পণ আশা করেছিলেন, কিন্তু ইরানি শাসনব্যবস্থা এখনও শক্তিশালী ও দমনমূলক।
কিউবার নেতৃত্ব “ভাঙা কঠিন” বলে মন্তব্য করেছেন বারাক ওবামা প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা রিকার্ডো জুনিগা, যিনি ২০১৪-২০১৭ সালে হাভানা-ওয়াশিংটন সমঝোতা আলোচনায় ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবায় কেউ মার্কিন পক্ষে কাজ করতে প্রলুব্ধ হবে না।
১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে কিউবার নেতৃত্বের পতন অনেক মার্কিন রাজনীতিবিদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। ১৯৬২ সালের বে অফ পিগস আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছিল এবং সিআইএ ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যার একাধিক চেষ্টা করেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের জন্য কিউবায় কমিউনিস্ট সরকারের অস্তিত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অপমানজনক। তবে কিউবার সরকারের প্রকৃত ক্ষমতা, কর্মকর্তাদের আনুগত্য এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বহিরাগতদের কাছে অস্পষ্ট।